
ভেনেজ়ুয়েলা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিল্লিতে (Delhi) ব্যাপক বিক্ষোভে সামিল হল একাধিক বাম দল ও সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভেনেজ়ুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকান সেনারা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাম নেতারা দাবি করেন, অবিলম্বে মাদুরোকে মুক্তি দিতে হবে এবং ভেনেজ়ুয়েলার (Delhi) অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সিপিআই(এম), সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক সহ একাধিক বামপন্থী দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার নিয়ে তাঁরা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। “ভেনেজ়ুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করো”, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক”—এই ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিক্ষোভস্থল।ে
বিক্ষোভে উপস্থিত বাম (Delhi) নেতারা বলেন, ভেনেজ়ুয়েলা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবলমাত্র ভেনেজ়ুয়েলার জনগণেরই আছে। তাঁদের দাবি, কোনও বিদেশি শক্তির সেখানে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এক বাম নেতা অভিযোগ করেন, “আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নিজেদের স্বার্থে হস্তক্ষেপ করে আসছে। ভেনেজ়ুয়েলাও তার ব্যতিক্রম নয়।” বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা যদি সত্য হয়, তা হলে তা শুধু ভেনেজ়ুয়েলার গণতন্ত্রের উপর আঘাত নয়, গোটা বিশ্বের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলির জন্যও এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। তাঁরা বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ভারতের সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলকে এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে বলে দাবি জানান বাম নেতারা।
বিক্ষোভ (Delhi) চলাকালীন বক্তারা আরও বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ এবং সামরিক হুমকির মাধ্যমে কোনও দেশের সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাঁদের মতে, ভেনেজ়ুয়েলার চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট সে দেশের অভ্যন্তরীণ সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপে নয়।
বাম দলগুলির তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত ঐতিহাসিকভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে ভেনেজ়ুয়েলার প্রশ্নেও ভারতের উচিত বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে কথা বলা। তাঁরা রাষ্ট্রসংঘের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান।
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত সাধারণ সমর্থকরাও তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকের বক্তব্য, বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তিশালী দেশগুলির এই ধরনের আচরণ ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আরও বেশি অসুরক্ষিত করে তোলে। একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “আজ ভেনেজ়ুয়েলা, কাল অন্য কোনও দেশ—এই ধারাবাহিকতা চলতেই পারে। তাই এখনই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি।” শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশি নজরদারির মধ্যেই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। বাম দলগুলি জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ভবিষ্যতেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং দেশজুড়ে জনমত গড়ে তুলবে।










