সেনা বাহিনীর দখল নিয়েছে লস্কর? কাসুরির মন্তব্যে চাঞ্চল্য

লস্কর-ই-তৈয়বার ডেপুটি চিফ সৈফুল্লাহ খালিদ কাসুরির সাম্প্রতিক বক্তব্য (Lashkar chief)পাকিস্তানের প্রোপাগান্ডার নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। মুরিদকেতে একটি সমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, “২০২৫ সালে আমরা আকাশে…

lashkar-chief-pakistan-army-provocative-statement

লস্কর-ই-তৈয়বার ডেপুটি চিফ সৈফুল্লাহ খালিদ কাসুরির সাম্প্রতিক বক্তব্য (Lashkar chief)পাকিস্তানের প্রোপাগান্ডার নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। মুরিদকেতে একটি সমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, “২০২৫ সালে আমরা আকাশে আধিপত্য বিস্তার করেছি। ২০২৬ সালে আমরা সমুদ্রেও রাজত্ব করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “২০২৫ ছিল পাকিস্তানের ফিজাওঁ কা শেহজাদা (আকাশের রাজপুত্র) হওয়ার বছর।

Advertisements

এখন ২০২৬। বছর শেষ হওয়ার আগেই, ইনশাআল্লাহ, পাকিস্তান সমুদ্রের রাজপুত্র (সমুন্দরোঁ কা শেহজাদা) হয়ে উঠবে।” কাসুরির এই বক্তব্যেকে কেন্দ্র করেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। কূটনৈতিক মহলের মন্তব্য তবে কি এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দখল নিয়েছে লস্করের মত জঙ্গি বাহিনী। এই বক্তব্যের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ২০২৫ সালের এক কঠোর বাস্তবতা। গত বছর এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হন।

   

রাজ্যে শীতের দাপট, সপ্তাহান্তে বাড়বে তাপমাত্রা

এই হামলার দায় স্বীকার করে লশ্করের অঙ্গসংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। এর জবাবে ভারতীয় বিমানবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। ২০২৫ সালের ৬-৭ মে রাতে পাকিস্তানের মুরিদকে-তে লশ্করের প্রধান ঘাঁটি মারকাজ-ই-তৈয়বা-সহ একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। লশ্করের কমান্ডার হাফিজ আবদুল রউফ নিজেই স্বীকার করেছেন যে এই হামলা “খুব বড় আক্রমণ” ছিল এবং সেখানে এখন বসার জায়গাও নেই।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এই পরাজয়ের পরও সৈফুল্লাহ কাসুরির এমন দম্ভোক্তি অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছ থেকেও একই রকম “চিকিত্সা” পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেন প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কথায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা পাকিস্তান আর্মি চিফ আসিম মুনিরের যুগের সমন্বিত প্রোপাগান্ডা।

লস্করের জলযান-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নেটওয়ার্ক স্কুবা ডাইভিং, সাঁতারু ও স্পিডবোট প্রশিক্ষণ ‘জল উদ্ধার’ নামে চালানো হচ্ছে বলে ওএসইনটি সূত্রে জানা গেছে। কাসুরির বক্তব্য এই নেটওয়ার্ককে নতুন করে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা।সৈফুল্লাহ কাসুরি লশ্কর-ই-তৈয়বার ডেপুটি চিফ এবং পহেলগাঁও হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। সম্প্রতি তিনি একটি স্কুল অনুষ্ঠানে পাকিস্তান আর্মির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন।

বলেছেন, আর্মি তাঁকে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানায় এবং সেনাদের জানাজায় ইমামতি করতে বলে। এই স্বীকারোক্তি ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ পাকিস্তান সেনা ও আইএসআই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সমর্থন করে কে আরও জোরালো করে তুলেছে।মুরিদকে-র এই সমাবেশে হাফিজ তালহা সাঈদ (হাফিজ সাঈদের ছেলে), হাফিজ আবদুল রউফ-সহ লস্করের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লস্কর ও জৈশ-ই-মোহাম্মদের মধ্যে নতুন করে সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। হামাস-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকদেরও উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৬-এর ৫ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীর সলিডারিটি ডে-তে নতুন জিহাদ কনভেনশনের আগে মুরিদকে ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

Advertisements