শ্রীনগর: জঙ্গি দমন অভিযানে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় সেনা (Indian Army)। জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তোয়ার জেলার দুর্গম কেশওয়ান–চাত্রু উপত্যকায় শুরু হয়েছে একটি বড়সড় অ্যান্টি-টেরর অপারেশন। সেনা সূত্রে খবর, তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই এই এলাকায় সক্রিয় জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নিষ্ক্রিয় করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, এই এলাকায় বর্তমানে জইশের অন্তত দুটি ছোট জঙ্গি দল লুকিয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে এক দলের সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গির মাথার দাম ৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কেশওয়ান, চাত্রু অঞ্চলে জঙ্গিদের গোপন গতিবিধির খবর পাচ্ছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
‘বাংলায় জঙ্গি থাকলে পহেলগাঁও কে করাল?’ অমিত শাহকে তীব্র কটাক্ষ মমতার
কেশওয়ান–চাত্রু উপত্যকা কিস্তোয়ারের অন্যতম দুর্গম এলাকা। ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি পথ এবং সীমিত জনবসতির কারণে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত। শীতকালে তীব্র তুষারপাতের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই তার আগেই জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করতে সেনা তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানাচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং একাধিক জায়গায় কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন চালানো হচ্ছে। ড্রোন, নাইট-ভিশন ডিভাইস এবং আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহার করে জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় গ্রামগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে, যাতে কোনওভাবেই জঙ্গিরা পালিয়ে যেতে না পারে।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, “এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জঙ্গিরা শীতের আগে উপত্যকায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই, তার আগেই তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে।” তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালীন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কিস্তোয়ারে জেলা অতীতেও একাধিকবার জঙ্গি হামলা ও সংঘর্ষের সাক্ষী। বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীর ও চেনাব উপত্যকার সঙ্গে সংযোগ থাকার কারণে এই অঞ্চল জইশ এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়ায় জঙ্গিরা নতুন আশ্রয়স্থল খুঁজতে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই অভিযানের খবরে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, এলাকাবাসীকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বেরোনোর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোচ্ছে ভারত। কেশওয়ান–চাত্রু উপত্যকায় এই বড়সড় অভিযান সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সব মিলিয়ে, তুষারপাতের আগে কিস্তওয়ারে শুরু হওয়া এই অ্যান্টি-টেরর অপারেশন আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করা গেলে শুধু কিস্তওয়ার নয়, গোটা চেনাব উপত্যকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেই আশা করছে নিরাপত্তা মহল।
