নয়াদিল্লি: ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক (Khaleda Zia)মহলে শোকের আবহ। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, বুধবার তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং খালেদা জিয়ার প্রতি ভারত সরকার ও জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারত গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে ভারত।” কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এটি শুধু সৌজন্যমূলক সফর নয়, বরং দুই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠকে মোদী! ২০২৬ বাজেটের আগে বড় সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামতে পারে বলে প্রশাসনের অনুমান।
এদিকে, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও জানাজায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পার্টির এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদেরের নির্দেশে মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলীয় নেতা-কর্মীদের জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জানাজার আগে সকাল সাড়ে এগারোটায় ঢাকায় অবস্থানরত জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সংসদ ভবন সংলগ্ন পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে জড়ো হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” একই সুরে শোকবার্তা এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তরফ থেকেও।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য নির্বিশেষে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মান।
খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি দলের নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই এক বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন অনেকেই।জানাজা ও শেষকৃত্য ঘিরে ঢাকায় যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এস. জয়শঙ্করের সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
