যৌন হয়রানি সঙ্গে ধর্মান্তকরণের চাপ! যোগী রাজ্যে নারী নিরাপত্তায় প্রশ্ন

kgmu-sexual-harassment-religious-conversion

লখনউয়ে কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (sexual harassment) এক চিকিৎসককে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্ত ডা. রামিজ মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক হিন্দু মহিলা রেসিডেন্ট ডাক্তারকে যৌন হয়রানি করার পাশাপাশি ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে ১৬ দিন ধরে পলাতক ছিলেন তিনি এবং তাঁর মাথায় ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

একাধিক পুলিশ টিম তাঁর পিছনে লেগে ছিল এবং অবশেষে আজ তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নও তুলেছে।ঘটনার সূত্রপাত গত মাসের শেষে। কেজিএমইউ-র এক মহিলা রেসিডেন্ট ডাক্তার অভিযোগ দায়ের করেন যে, ডা. রামিজ মালিক তাঁকে বারবার যৌন হয়রানি করেছেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিয়েছেন।

   

মাওবাদী আত্মসমর্পনে ঐতিহাসিক দিন ছত্তিশগড়ে

অভিযোগে বলা হয়েছে, রামিজ তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কে জড়ান এবং পরে ধর্মান্তরের জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপ দিতে থাকেন। মহিলা ডাক্তার যখন প্রতিবাদ করেন, তখন তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর লখনউ পুলিশ তৎক্ষণাৎ এফআইআর দায়ের করে এবং রামিজের বিরুদ্ধে আইপিসি-র একাধিক ধারা এবং এসসি/এসটি আইনের ধারা যোগ করে মামলা রুজু করে।

তিনি পলাতক হয়ে যান এবং পুলিশ তাঁর মাথায় ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামিজ মালিক কেজিএমইউ-র একজন জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার ছিলেন। তিনি হাসপাতালের মধ্যেই মহিলা সহকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মহিলা ডাক্তারের অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে এবং রামিজকে সাসপেন্ড করে। কিন্তু তার আগেই তিনি পলাতক হন।

পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে তল্লাশি চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন এবং গোয়েন্দা সূত্রের সাহায্যে তাঁর গতিবিধি ট্র্যাক করা হয়। অবশেষে আজ লখনউয়েরই এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। গ্রেফতারের পর রামিজকে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছে।

পুলিশের দাবি, তদন্তে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। ভুক্তভোগী মহিলা ডাক্তার বলেন, “অবশেষে ন্যায়ের আশা দেখছি। আমি শুধু আমার জন্য নয়, অন্যান্য মহিলা চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছি।” কেজিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আরও কড়া ব্যবস্থা নেবেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন