
কেরলের কোঝিকোড় জেলার মোকেরি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর (Kerala terror plot)ঘটনায় বিপুল পরিমাণ বোমা এবং মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযান চালানো হয় সাহারা কলেজ অ্যান্ড হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের মাঠে অবস্থিত থাঙ্গাল পিটিকায় এসডিপিআই (সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া)-র একটি সেন্টারে। পুলিশের দাবি, এখান থেকে কয়েক ডজন ক্রুড বোমা, তলোয়ার, লোহার রড, পেট্রোল বোমা তৈরির উপকরণ এবং অন্যান্য বিপজ্জনক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
এসডিপিআইকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পিএফআই (পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া)-র রাজনৈতিক শাখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ করেছে।ঘটনার সূত্রপাত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। কোঝিকোড় রুরাল পুলিশের স্পেশাল টিম মঙ্গলবার রাতে সাহারা স্কুলের মাঠে অবস্থিত এসডিপিআই-র কার্যালয়ে হানা দেয়। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা চলে যাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে অভিযান শুরু হয়। পুলিশের সামনে যা উন্মোচিত হয়, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান আধিকারিকরা।
বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি বিসিবির, আইসিসির কড়া শাস্তির কোপে বাংলাদেশ!
একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০টিরও বেশি ক্রুড বোমা যেগুলো ইস্পাতের পাইপে বিস্ফোরক ভর্তি করে তৈরি। এছাড়া তলোয়ার, ছোরা, লোহার রড, পেট্রোল ভর্তি বোতল এবং বোমা তৈরির রাসায়নিক উপাদান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এগুলো রাজনৈতিক হিংসা বা বড় কোনো ঘটনার জন্য মজুত করা হচ্ছিল।অভিযানে এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই এসডিপিআই-র স্থানীয় নেতা-কর্মী।
পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে এই অস্ত্রশস্ত্র কোথা থেকে এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, সাহারা স্কুলটি এসডিপিআই-র সঙ্গে যুক্ত এবং সেখানে প্রায়ই রাতের বেলা সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত দেখা যেত। এক বাসিন্দা বলেন, “স্কুলের মাঠে রাতে আলো জ্বালিয়ে কী করা হত জানি না। কিন্তু এখন শুনে গায়ে কাঁটা দেয়।
আমাদের ছেলেমেয়েরা সেই স্কুলে পড়ে!”এই ঘটনা কেরলের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলেছে। বিজেপি এবং কংগ্রেস দুই দলই তীব্র সমালোচনা করেছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারকে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি কে সুরেন্দ্রন বলেছেন, “পিএফআই নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তার রাজনৈতিক শাখা এসডিপিআই কেরলে অবাধে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সরকার চোখ বন্ধ করে আছে কারণ ভোটব্যাংকের ভয়।”
কংগ্রেস নেতা ভি ডি সতীশন বলেন, “একটা স্কুলের মাঠে বোমা মজুত! এর থেকে বড় লজ্জার কী হতে পারে? সরকারকে এখনই এসডিপিআই-র ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।”অন্যদিকে, সিপিএম এবং এলডিএফ-এর নেতারা বলছেন, পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং যারাই দোষী তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।
তবে এসডিপিআই-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। দলের রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, “এটা বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের ষড়যন্ত্র। আমাদের কার্যালয়ে পুলিশ এনে মিথ্যা অস্ত্র রেখে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা আইনি লড়াই করব।”




