
কেরলের রাজনীতিতে বিধানসভা (AK Balan)নির্বাচনের মুখে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করলেন সিপিআই(এম)-এর বর্ষীয়ান নেতা এ কে বালান। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ক্ষমতায় এলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ‘জামাত-ই-ইসলামি’র হাতে চলে যাবে এই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল বাকযুদ্ধ। বাম, কংগ্রেস, বিজেপি এবং জামাত-ই-ইসলামি সব পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে।
পালাক্কাড়ে এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কে বালান বলেন, “যে কোনও পরিস্থিতিতে ইউডিএফ ক্ষমতায় এলে বিজেপি দু’দিনের মধ্যেই তাদের ধ্বংস করে দেবে। মালয়ালিদের বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। শুধু তাই নয়, ইউডিএফ ক্ষমতায় এলে স্বরাষ্ট্র দফতর সামলাবে জামাত-ই-ইসলামি।” বালানের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস একে ‘সঙ্ঘ পরিবার স্টাইলের ভীতি রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করে।
কয়লা কেলেঙ্কারি অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির আইনি নোটিস শুভেন্দুর
কংগ্রেস নেতা ভি ডি সতীশনের দাবি, ইউডিএফ ক্ষমতায় এলে জামাত-ই-ইসলামি স্বরাষ্ট্র দফতর চালাবে এই বক্তব্য আসলে বিজেপির দেশজুড়ে চালানো বিভাজনের রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। সতীশন অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “গুজরাটের এক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রচার করেছিল, কংগ্রেস জিতলে আহমেদ প্যাটেল মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কেরলেও সেই একই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।”
সতীশন আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য এবং এ কে বালান এই মন্তব্য করেছেন সিপিআই(এম) নেতৃত্বের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই। কংগ্রেসের মতে, বাম শিবির এখন বিজেপির মতোই ‘ভয়ের রাজনীতি’কে হাতিয়ার করছে।
এই বিতর্কে সবচেয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে জামাত-ই-ইসলামি হিন্দ। সংগঠনটি এ কে বালানকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে বালানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হবে এবং মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দাবি করা হবে। জামাত-ই-ইসলামির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে মুসলিম সংগঠনকে ‘ভীতির প্রতীক’ বানিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের ভোট নিশ্চিত করাই এই মন্তব্যের মূল লক্ষ্য।
জামাত-ই-ইসলামি হিন্দ কেরল আমির পি মুজিবুর রহমান বলেন, বালানের বক্তব্য সরাসরি সঙ্ঘ পরিবারের আদর্শকে প্রতিফলিত করে। তিনি এম এস গোলওয়ালকরের ‘বাঞ্চ অব থটস’ বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও কমিউনিস্টদের ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেরালার রাজনীতিতে এখন এক বিপজ্জনক মোড় দেখা যাচ্ছে।
মুজিবুর রহমান আরও বলেন, “যদি যোগী আদিত্যনাথের বুলডোজার রাজনীতি বা নরেন্দ্র মোদীর মুসলিম বিরোধী নীতির সমালোচনা করা হয়, তাহলে কেরলেও রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যালঘুদের নিশানা করছে এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তাঁর মতে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীকে একত্রিত করা যে বামফ্রন্ট একসময় করেছিল, সেই বামফ্রন্টই এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য এই ধরনের বিপজ্জনক পথ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, কেরলের বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর এই সুযোগে কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)-কে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও আইইউএমএল জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে।
চন্দ্রশেখর দাবি করেন, জামাত কোনও সাধারণ সংগঠন নয় এবং বাংলাদেশের হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি সংগঠনটির বিরুদ্ধে ইসলামিক রাষ্ট্র ও শরিয়া আইন কায়েমের প্রচারের অভিযোগও তোলেন।










