
কর্নাটক কংগ্রেস আইনসভা দলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া দলের বিধায়কদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে ক্ষমতা ভাগাভাগি (power-sharing) নিয়ে জনসমক্ষে কোনও মন্তব্য করা চলবে না এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করাও অনুচিত। এমনটাই জানিয়েছেন সূত্ররা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে দলীয় নেতৃত্ব ঘিরে যে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার, বিভিন্ন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং কংগ্রেস বিধায়করা। সরকারের কর্মক্ষমতা, আর্থিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষকদের বাস্তব সমস্যাগুলি এদিন বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
দলীয় সূত্রের দাবি, একাধিক বিধায়ক নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে রাজ্যের জনপ্রিয় ‘গ্যারান্টি স্কিম’গুলি সরকারকে জনসমর্থন দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এসব স্কিমের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। তাদের বক্তব্য, রাস্তা, অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ছাড়া শুধুমাত্র সামাজিক নিরাপত্তা-নির্ভর কর্মসূচি যথেষ্ট হবে না। অনেক বিধায়ক অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ পর্যাপ্ত নয় এবং তহবিল ছাড়ে দেরি হচ্ছে। যার ফলে মাঠে-মাটিতে কাজ আটকে যাচ্ছে। এর ফলে শাসক কংগ্রেসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বৈঠকে বিধায়করা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন দফতরের আমলারা মন্ত্রী ও বিধায়কদের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করছেন না, বরাদ্দ কাজ অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে, এমনকি বহু ফাইল অনুমোদনের জন্য মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে।কিছু বিধায়ক দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন—তাদের মতে, কিছু আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব ঘটিয়ে আর্থিক লেনদেন বা প্রকল্প অনুমোদনে অনিয়ম করছেন। এই পরিস্থিতিতে তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে আমলাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করেন।
অর্থসংকটের বিষয়টি সামনে আসতেই, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বিধায়কদের আশ্বাস দেন যে প্রত্যেক এমএলএ-র জন্য প্রতিশ্রুত ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন তহবিল ধাপে ধাপে ছাড়া হবে। তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি খুব দ্রুত অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কদের বিরোধী শিবিরের সমালোচনার কার্যকর পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। উত্তর কর্নাটকের অবহেলা, সেচ সমস্যা, এবং আখ-ভুট্টা চাষিদের সংকট নিয়ে বিরোধীরা যে আক্রমণ শানাচ্ছে, সেই বিষয়ে দলকে আরও সক্রিয় হতে বলেন তিনি।সিদ্দারামাইয়ার দাবি, কেন্দ্র কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়নি এবং ন্যায্য সহায়তা দিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কৃষকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যদিও রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ত্রাণ ও সহায়তা দিচ্ছে।










