দুবছরের ভ্রমণ খরচে রেকর্ড গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

বেঙ্গালুরু, ১২ ডিসেম্বর: কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলে একটা বড় বিতর্কের জন্ম (Karnataka CM Siddaramaiah)নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার ভ্রমণ খরচ নিয়ে। বিধান পরিষদে উত্থাপিত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশিত…

karnataka-cm-siddaramaiah-travel-expense-controversy

বেঙ্গালুরু, ১২ ডিসেম্বর: কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলে একটা বড় বিতর্কের জন্ম (Karnataka CM Siddaramaiah)নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার ভ্রমণ খরচ নিয়ে। বিধান পরিষদে উত্থাপিত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশিত সরকারি নথিতে দেখা গেছে, মে ২০২৩ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তাঁর চার্টার্ড বিমান এবং হেলিকপ্টার ভ্রমণের খরচ অতিক্রম করে ৪৭.৩৮ কোটি টাকা।

Advertisements

এর মধ্যে শুধু অক্টোবর এবং নভেম্বর ২০২৫-এ দু’মাসে ১৪.০৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা যেন রাজ্যের করদাতাদের পকেট থেকে সোনার মুষ্টি বের করার মতো। বিজেপি এই খরচকে ‘অপচয়ের চরম উদাহরণ’ বলে চিহ্নিত করে সিদ্ধারামাইয়াকে ‘মজাওয়াদী’ (আনন্দপ্রিয়) বলে কটাক্ষ করেছে, যা কংগ্রেস সরকারের জন্য একটা বড় ধাক্কা।এই নথি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের বিডিংস ডিভিশন দিয়ে তৈরি, যা বিধান পরিষদে বিজেপি এমএলসি এন. রবিকুমারের তারকাযুক্ত প্রশ্নের উত্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

   

নতুন Mini Cooper S Convertible ভারতে ছুটবে, দাম 58.50 লক্ষ

নথিতে দেখা যায়, মে ২৬, ২০২৩ যেদিন সিদ্ধারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী হন থেকে নভেম্বর ১১, ২০২৫ পর্যন্ত ১৮১ বার চার্টার্ড বিমান বা হেলিকপ্টার ভাড়া করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০ বার জিএমপি এয়ার চার্টার্স এবং একবার গোজেটস অ্যাভিয়েশনের মাধ্যমে। বছরভিত্তিক ভাগ করলে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৮টি ভ্রমণে ১২.২৩ কোটি, ২০২৪-২৫-এ ৮৫টি ভ্রমণে ২১.১১ কোটি এবং ২০২৫-২৬-এর প্রথম ছয় মাসে ৪৮টি ভ্রমণে ১৪.০৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

এই খরচের বেশিরভাগই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলো—মহেদেবপুরা, হুব্বল্লি, বেলগাম, কলাবুরাগি, উডুপি, চিত্রদুর্গা, হাভেরি, বিদার—এবং বাইরের শহর যেমন নয়াদিল্লি, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, শিরড়িতে যাওয়ার জন্য। বিশেষ করে বেঙ্গালুরু-মহেদেবপুরা রুটে ৪০ বারেরও বেশি ভ্রমণ হয়েছে, যার খরচ শুধু এই রুটে ৫ কোটিরও বেশি।এই খরচের খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি-র নেতারা যেন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন।

বিজেপি এমএলএ বাসনগৌড়া আর. পটিল বলেছেন, “সিদ্ধারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রীর পদকে ‘কস্টলি মিনিস্টার’-এ পরিণত করেছেন। উত্তর কর্ণাটকের পরিকাঠামো, সেচ, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা-শিক্ষার মতো সমস্যা থাকতে থাকতে তিনি চা খেতে চপারে উড়ছেন। এটা জনতার টাকার অপচয়।” বিজেপি নেতা সি.টি. রবি কটাক্ষ করে বলেছেন, “সিদ্ধারামাইয়া সামাজিকতাবাদী থেকে মজাওয়াদী হয়ে গেছেন।

তিনি যে রাস্তার যোগাযোগ উন্নত হয়েছে বলে সমালোচনা করতেন, সেই রাস্তা এখনও ব্যবহার করছেন না শর্ট ডিসট্যান্সেও হেলিকপ্টার!” বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স-এ লিখেছেন, “৩০ মাসে ৪৭.৩৮ কোটি খরচ এটা কি জনকল্যাণের সামাজিকতা? রাজ্যের পরিকাঠামো , গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় জরুরি প্রয়োজন থাকতে থাকতে এই খরচ কি ন্যায়সঙ্গত?” বিজেপি এই ইস্যুকে নিয়ে আসন্ন বিধানসভা সেশনে বড় হাঙ্গামা করার পরিকল্পনা করছে।

Advertisements