কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গোটা দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া (Siddaramaiah) কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সামাজিক পরিবর্তনের ধারক ও বাহক।
সিদ্ধারামাইয়া (Siddaramaiah) বলেন, “আমরা সারা দেশে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করছি। মহাত্মা গান্ধী দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে মানুষের জীবন, চিন্তাধারা, সমাজ ও সমস্যাগুলো বুঝেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতবাসীর স্বাধীনতা প্রয়োজন।” তাঁর মতে, স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গণআন্দোলন, যেখানে গান্ধীর আদর্শ ছিল মূল চালিকাশক্তি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিজেপি মহাত্মা গান্ধীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব গ্রহণ করেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি এখন মহাত্মা গান্ধীকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। অথচ গান্ধীর আদর্শ ছাড়া ভারতের স্বাধীনতা কল্পনাই করা যেত না।” সিদ্ধারামাইয়ার দাবি, ইতিহাসকে বিকৃত করে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে।
তিনি কংগ্রেসের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘গরিবি হটাও’ কেবল একটি স্লোগান ছিল না। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে একাধিক পরিপূরক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। দরিদ্র মানুষের কল্যাণ, সামাজিক ন্যায় এবং অর্থনৈতিক সমতার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা আজও স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন সিদ্ধারামাইয়া।
সিদ্ধারামাইয়ার প্রশ্ন, বিজেপির অবদান কী? তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “বিজেপির যদি কোনও কৃতিত্ব থেকে থাকে, তা হল দেশের বিভাজন।” তাঁর মতে, বিজেপির রাজনীতি বিভাজনের রাজনীতি—ধর্ম, ভাষা এবং সংস্কৃতির ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করে দেওয়াই তাদের প্রধান রাজনৈতিক কৌশল। এই ধরনের রাজনীতি দেশের ঐক্য ও সংহতির জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কংগ্রেসের ঐতিহ্য সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দল সর্বদা বহুত্ববাদ, সহনশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে এসেছে। গান্ধী থেকে নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাজীব গান্ধী— কংগ্রেস নেতৃত্ব বরাবরই দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের ভারত যে গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। সংবিধান, মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়— সব ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ বিজেপি সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করে নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।
সিদ্ধারামাইয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে স্মরণ করার দিন। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
