উচ্ছেদ ইস্যুতে উত্তপ্ত অসম: পশ্চিম কার্বি আংলংয়ে সংঘর্ষে মৃত ২, ইন্টারনেট বন্ধ

Karbi Anglong Eviction Violence

উচ্ছেদ ইস্যু ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং। মঙ্গলবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন একাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন দুই জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় এবং এলাকায় নামানো হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।

Advertisements

পর পর দোকানে আগুন

খেরোনি বাজার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই রাস্তায় নামেন বহু মানুষ। সোমবার একটি উন্মত্ত জনতা প্রায় ১৫টি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এক পক্ষ বিক্ষোভে সামিল হয়। একই সময়ে, আদিবাসী বেল্ট থেকে দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে অন্য একটি গোষ্ঠীও জমায়েত হয়। দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

   

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে বচসা শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয় পক্ষের তরফে পাথর ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। জনশান্তি বজায় রাখতে এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খেরোনি এলাকায় আরও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

দুই জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ

অসম সরকারের রাজনৈতিক (এ) দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন, ১৮৮৫-এর ৫(২) ধারার আওতায় এবং ২০১৭ সালের টেলিকম পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী কার্বি আংলং ও পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় সমস্ত মোবাইল ডেটা ও ইন্টারনেট পরিষেবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে।

কেন এই বিক্ষোভ?

বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রফেশনাল গ্রেজিং রিজার্ভ (PGR) এবং ভিলেজ গ্রেজিং রিজার্ভ (VGR) জমি থেকে অবিলম্বে দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে। অভিযোগ, এই জমিগুলিতে মূলত বিহার থেকে আসা মানুষ অবৈধভাবে বসবাস করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা এই দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার আন্দোলনকারীদের একাংশ কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের (KAAC) মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য তুলিরাম রোংহাংয়ের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি খেরোনি বাজারে প্রায় ১৫টি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। উচ্ছেদ প্রশ্নে আদিবাসী স্বার্থ, বহিরাগত বসতি এবং আইনশৃঙ্খলা—এই তিনের টানাপোড়েনে অসমের এই পাহাড়ি জেলায় আপাতত শান্তি ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements