
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আরও (Kapil Sibal)একবার তীব্র প্রশ্ন তুললেন প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বাল। সম্প্রতি কলকাতায় I-PACর অফিস ও তার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED-র তল্লাশি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানতে চেয়েছেন, তদন্তকারীরা কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস অ্যাক্সেস করার আগে অভিযুক্ত পক্ষের অনুমতি নেয়নি কেন?
তিনি বলেছেন “ইডি কি তদন্ত করতে এসেছিল। এই ভাবে কাগজ নিয়ে যাওয়া যায়না। ইডির সন্দেহ হলে তারা কম্পিউটারের এক্সেস চাইত পারত এবং তদন্ত করতে পারত।” এমনটাই কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন সিব্বাল। ED-র সাম্প্রতিক অভিযানের পর যেখানে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই পরিপ্রেক্ষিতেই মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী। বৃহস্পতিবার ED কয়লা পাচার সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় I-PAC-র অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়।
ভারত কি ২৩০টি Su-57 কিনবে? রাফালের দ্বিগুণ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে রাশিয়া
অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ED দাবি করে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ প্রমান সরিয়ে নিয়েছে। এরপর ED কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে এবং অভিযোগ দায়েরের অনুমতি চেয়েছে।কপিল সিব্বাল এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে X-এ পোস্ট করে বলেন, “শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টই ED-কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
প্রতিটি বিরোধী শাসিত রাজ্য, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা লক্ষ্যবস্তু। ফেডারেলিজম ED-র দয়ার ওপর নির্ভর করছে!” তিনি আরও যোগ করেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় এখন অভিযুক্ত পক্ষের সম্মতি ছাড়া কম্পিউটার বা ডিভাইস অ্যাক্সেস করা যাবে না। সিব্বালের মতে, এটি তদন্তের স্বাধীনতা ও আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে ED-র তল্লাশি ও সিজারের আইনি নিয়ম।
PMLA (Prevention of Money Laundering Act)-এর অধীনে ED-র কাছে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত , গ্রেফতার কিন্তু ডিজিটাল ডেটা অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত নিয়ম মেনে চলতে হয়।সিব্বালের দাবি, অভিযুক্তের আইনজীবী বা পক্ষের অনুমতি ছাড়া অ্যাক্সেস করা যায় না এমন কোনও নিয়ম নেই।
রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, সিব্বাল ED-র বিরুদ্ধে কথা বলে বিরোধীদের রক্ষা করতে চাইছেন। অন্যদিকে তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা এটিকে কেন্দ্রের “রাজনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অভিযান ও বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।










