বাংলাদেশ আবহে উত্তপ্ত যোগী রাজ্য

kanpur-protest-bangladesh-hindu-persecution

কানপুর: উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে(Kanpur protest)। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর কর্মীরা আজ, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, রামাদেবী চৌকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন।

Advertisements

এই প্রতিবাদের মূল কারণ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চলতে থাকা অত্যাচার এবং সম্প্রতি দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যা। প্রতিবাদকারীরা স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা করেন এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানান।

   

বড়দিনের পর ১০ হাজার বিএলএ নিয়ে অভিষেকের মেগা বৈঠক

এই ঘটনা যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।বাংলাদেশে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে ২৫-২৭ বছর বয়সী এক হিন্দু গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৌলবাদীরা পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার দেহ গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই নৃশংস ঘটনা ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তদন্তে দেখা গেছে যে, এটি ধর্মীয় অভিযোগের চেয়ে কর্মক্ষেত্রের বিরোধ থেকে তৈরী হয়েছে।

কিন্তু জনতার হাতে হত্যা এবং দেহ পোড়ানোর ঘটনা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ঘটনার নিন্দা করলেও, ভারতে অনেকে মনে করছেন যে, সংখ্যালঘু হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার।কানপুরের রামাদেবী চৌকে ভিএইচপি কর্মীরা হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। তাঁরা ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকারীদের শাস্তি চাই’ জাতীয় স্লোগান দেন।

এই প্রতিবাদ শুধু কানপুরেই নয়, দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই, হায়দরাবাদ, ভোপালসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ভিএইচপি এবং বজরং দলের কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে প্রতিবাদ করেন, যার ফলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং অনেককে আটক করা হয়। এই প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে নিজেদের দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকারের রাজত্বে এই ধরনের প্রতিবাদের তাৎপর্য অনেক। রাজ্যটি হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, এবং বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের খবর এখানে সহজেই রাজনৈতিক রং নেয়। ভিএইচপি নেতারা বলছেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে ভারত সরকারকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। কেউ কেউ এমনকি ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলও এই ঘটনার নিন্দা করেছে, যদিও তাঁরা রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এই প্রতিবাদের পিছনে বাংলাদেশের চলতে থাকা অস্থিরতা একটি বড় কারণ। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দেশটিতে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ বেড়েছে।

দীপু চন্দ্র দাসের হত্যা যেন সেই আগুনে তেল ঢেলেছে। ভারতে হিন্দু সংগঠনগুলো এটিকে ‘সংখ্যালঘু নিধনের’ প্রতীক হিসেবে দেখছে। কানপুরের মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, তাঁরা চুপ করে থাকবেন না। এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও, এর প্রভাব রাজনৈতিক মহলে পড়বে নিশ্চিত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements