ঝাড়খন্ড: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand)রাঁচি থেকে উঠে এল এমন এক ঘটনা, যা শুনে চমকে উঠেছেন আইনজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ পুলিশি হেফাজতে রাখা প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা নাকি খেয়ে ফেলেছে ইঁদুর! আর সেই কারণেই আদালতে প্রমাণ হিসেবে কোনও মাদক হাজির করা যায়নি। ফলত, প্রায় ১ কোটি টাকার গাঁজা পাচার মামলায় মূল অভিযুক্তকে খালাস করে দিল আদালত।
ঘটনাটি ঝাড়খণ্ডের এক বহুচর্চিত মাদক মামলাকে ঘিরে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে একটি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। তদন্তকারীদের বক্তব্য ছিল, উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষিত ভারতীয় দলের নয়া কোচ
অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয় এবং মামলা গড়ায় আদালতে। কিন্তু বিচার চলাকালীন যে তথ্য সামনে আসে, তা কার্যত গোটা মামলাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। আদালতে ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানায়, বাজেয়াপ্ত করা গাঁজা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে। ফলে বিচারকক্ষে কোনও মাদকদ্রব্য পেশ করা সম্ভব নয়।
এই যুক্তি শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হন আদালত। বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি এত বড় মাদক উদ্ধার মামলায় প্রমাণ সংরক্ষণে এমন চরম গাফিলতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, শুধু মাদকদ্রব্য অনুপস্থিত থাকাই নয় প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযুক্তকে সেই গাড়ির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছে। গাড়িটির মালিকানা, চালকের পরিচয় বা অভিযুক্তের সঙ্গে তার সংযোগ কোনও কিছুই যথাযথভাবে প্রমাণ করা যায়নি।
এছাড়াও, কীভাবে এত বড় পরিমাণ গাঁজা সংরক্ষণ করা হয়েছিল, কোথায় রাখা হয়েছিল, সেখানে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এই সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি পুলিশ। আদালত মন্তব্য করে, জব্দ, সংরক্ষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের প্রতিটি ধাপেই গুরুতর ত্রুটি রয়েছে।
রায়ে আদালত জানায়, “যদি সত্যিই ইঁদুরে এত বিপুল পরিমাণ মাদক নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা প্রমাণ করে যে পুলিশ প্রমাণ সংরক্ষণের ন্যূনতম দায়িত্বও পালন করেনি।” বিচারপতিরা এটিকে গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন।
আইনের চোখে কোনও মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে সন্দেহাতীত প্রমাণ প্রয়োজন। এখানে সেই প্রমাণের সম্পূর্ণ অভাব থাকায় আদালত বাধ্য হয় অভিযুক্তকে খালাস দিতে। এই রায়ের পর ঝাড়খণ্ড পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এত বড় মাদক মামলায় প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়া কি নিছক অবহেলা, না কি এর পেছনে আরও বড় কোনও রহস্য রয়েছে তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে মাদক পাচারকারীদের আইনি ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও বড় ধাক্কা দেবে। সব মিলিয়ে, “ইঁদুরে গাঁজা খেয়ে ফেলেছে” এই যুক্তি শুধু একটি মামলায় অভিযুক্তকে মুক্তি দেয়নি, বরং গোটা ব্যবস্থার উপরই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
