জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় সেনা। সন্ত্রাসপ্রবণ চেনাব উপত্যকায় শীতকালীন অভিযানের মধ্যেই আত্মরক্ষার জন্য গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের আগ্নেয়াস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ডোডা জেলার অন্তর্গত ১৭টি গ্রামের অন্তত ১৫০ জন ‘ভিলেজ ডিফেন্স গার্ড’ বা ভিডিজিকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।
সূত্রের খবর, এই প্রশিক্ষণে আধুনিকীকরণ করা সেল্ফ লোডিং রাইফেল (এসএলআর) ব্যবহার শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল, সতর্কতা বজায় রাখা, সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করা এবং জরুরি অবস্থায় কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়—এসব বিষয়েও বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ দিক হল, এই কর্মসূচিতে গ্রামের মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সামাজিক রীতিনীতির গণ্ডি পেরিয়ে অনেক মহিলা ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই রাইফেল হাতে মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন, যা এলাকায় এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
ভিলেজ ডিফেন্স গার্ড ব্যবস্থা নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় মানুষকে আত্মরক্ষার জন্য এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। তবে ২০০০ সালের পর ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায় এবং বহু জায়গায় তা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পরে ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্যোগে আবার নতুন করে ভিডিজি ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা হয়। লক্ষ্য ছিল সীমান্তবর্তী ও দুর্গম গ্রামগুলিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মনির্ভর করে তোলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রামীণ স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
🚨 BIG BREAKING
Indian Army has started training Village Defence Guards in J&K’s Doda, focusing on weapons handling and self-defence to boost local security. pic.twitter.com/ZN9FUmFm7Y
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) December 30, 2025
বর্তমানে ডোডা, কিশ্তওয়ার, রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলার মতো এলাকায় এই কর্মসূচির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, চেনাব উপত্যকায় শীতকালে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বরফ পড়ার আগে এবং পরে পাহাড়ি পথে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতেই এই প্রশিক্ষণ। গ্রামবাসীরা নিজেদের এলাকাকে ভালোভাবে চেনেন বলেই তাঁদের যুক্ত করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে।
প্রশিক্ষণের ছবিতে দেখা গিয়েছে, মহিলা ভিডিজিরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাইফেল ধরছেন, নিশানা অনুশীলন করছেন এবং সেনা জওয়ানদের নির্দেশ মেনে মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। এই দৃশ্য অনেকের কাছেই প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে যেমন এটি নারীর ক্ষমতায়নের ছবি তুলে ধরছে, তেমনই অন্যদিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণের বার্তা দিচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উদ্যোগের প্রশংসা যেমন হচ্ছে, তেমনই কিছু প্রশ্নও উঠেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, আধুনিক জঙ্গিদের কাছে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় ভিডিজিদের হাতে আরও উন্নত অস্ত্র দেওয়া উচিত। যদিও প্রশাসনের দাবি, আপগ্রেড করা .৩০৩ সেল্ফ লোডিং রাইফেল প্রতিরক্ষার জন্য যথেষ্ট কার্যকর এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ শুধু অস্ত্র চালানো শেখানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং তারা সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনতে উৎসাহিত হন। ফলে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাই আরও শক্তিশালী হয়।
জম্মু ও কাশ্মীরের বদলে যাওয়া নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যেখানে একসময় আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা ছিল নিত্যসঙ্গী, সেখানে আজ গ্রামের মহিলারাও রাইফেল হাতে নিজেদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসছেন। সেনা ও সাধারণ মানুষের এই যৌথ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে চেনাব উপত্যকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।
