জামাতের জেলা ভাগ করার হুমকিতে বিপাকে রাজ্য সরকার

jamaat-threat-district-division-kerala-ernakulam

কেরলে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে মুসলিম জামাতের বিস্ফোরক দাবি (Jamaat)। এই মৌলবাদী সংগঠনটি এর্নাকুলাম জেলা বিভক্ত করে একটি নতুন জেলা গঠনের দাবি তুলেছে, যার সদর দফতর হবে মুভাত্তুপুঝা। জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং সামাজিক অবস্থাকে কারণ দেখিয়ে এই দাবি করা হয়েছে।

Advertisements

কিন্তু এই দাবি উঠতেই রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, যদি জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে বলা হয়, তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতা আর নিরপেক্ষ থাকবে না। এই ঘটনা কেরলের সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উপর নতুন ছায়া ফেলেছে।

   

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অভিষেক এই তারকার! সম্ভাব্য একাদশে বিরাট চমক

কেরলের মুসলিম জামাতের নেতারা জানিয়েছেন, এর্নাকুলাম জেলা বর্তমানে খুব বড় এবং জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্মে অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে মুভাত্তুপুঝা এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত করছে।

তারা বলছেন, নতুন জেলা গঠন হলে স্থানীয় মানুষের সুবিধা বাড়বে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। জামাতের এক নেতা বলেন, “এটা কোনো সাম্প্রদায়িক দাবি নয়, বরং প্রশাসনিক প্রয়োজন। জনসংখ্যাগত পরিবর্তন একটা বাস্তবতা, যা সবার জন্যই উন্নয়নের পথ খুলবে।”

কিন্তু এই দাবি উঠতেই সমালোচকরা বলছেন, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে।এই দাবির ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে কেরলের জনসংখ্যাগত গতিবিধি। রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, বিশেষ করে উত্তর কেরালার জেলাগুলোয়। গত বছরই জামাত মালাপ্পুরম জেলা বিভক্তির দাবি তুলেছিল, যা ৪৭ লক্ষ বাসিন্দার সুবিধার জন্য বলে দাবি করা হয়েছিল।

মালাপ্পুরমকে বিভক্ত করে নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা সহজলভ্য হবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের দাবি সাম্প্রদায়িক লাইনে জেলা গঠনের দিকে ইঙ্গিত করে, যা কেরলের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের সঙ্গে যায় না। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “যদি জনসংখ্যা বাড়ার কারণে জেলা বিভক্তি হয়, তাহলে হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় কেন একই দাবি নেই?”

রাজনৈতিক মহলে এই দাবি নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিজেপি ও কিছু হিন্দু সংগঠন বলছে, এটা ‘লভ জিহাদ’ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফল। তারা বলছেন, কেরলে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে বলে হিন্দুদের ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে বলা হচ্ছে, যা ধর্মনিরপেক্ষতাকে দুর্বল করে।

এক বিজেপি নেতা বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সবার সমান অধিকার, কিন্তু যদি এক সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়ার কারণে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে অন্যরা কেন পিছিয়ে থাকবে?” অন্যদিকে, কংগ্রেস ও সিপিএমের মতো দলগুলো বলছে, এটা প্রশাসনিক বিষয়, সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া উচিত নয়। সিপিএম নেতা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “জেলা বিভক্তি প্রয়োজনমাফিক হয়, জনসংখ্যা বাড়লে সুবিধা বাড়ানো দরকার। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা মেশানো ভুল।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements