জয়পুরে অবৈধ মসজিদকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য! বন্ধ ইন্টারনেট

জয়পুর: রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের চৌমুঁ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি (Jaipur Chomu mosque)মসজিদের বাইরে থেকে পাথর সরানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ…

jaipur-chomu-mosque-stone-removal-violence

জয়পুর: রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের চৌমুঁ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি (Jaipur Chomu mosque)মসজিদের বাইরে থেকে পাথর সরানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় ভারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় অন্তত ছয়জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

Advertisements

জয়পুর পশ্চিমের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হনুমান প্রসাদ মীণা ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, কালানদারি মসজিদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দখল সংক্রান্ত একটি বিতর্ক চলছিল। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এক পক্ষ স্বেচ্ছায় ওই দখল সরিয়ে নেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পরে কিছু মানুষ সেখানে ফের স্থায়ীভাবে দখল কায়েম করার উদ্দেশ্যে লোহার অ্যাঙ্গেল বসানোর কাজ শুরু করে।

   

ডিসিপি বলেন, “আমরা যখন সেই বেআইনি কাঠামো সরানোর জন্য ঘটনাস্থলে যাই, তখন কিছু লোক পুলিশের উপর পাথর ছোড়া শুরু করে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, প্রশাসন এই বিষয়ে কোনওরকম ছাড় দিতে রাজি নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে দখল সরানোর সময় হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু হয়। এতে কয়েকজন পুলিশকর্মী সামান্য আহত হন। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী ডাকা হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নজরদারি বাড়ানো হয়।

এই ঘটনার পর গুজব ছড়ানো ও অশান্তি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। ডিসিপি হনুমান প্রসাদ মীণা জানান, “বর্তমানে এলাকায় সম্পূর্ণ শান্তি রয়েছে। কোনও ধরনের আতঙ্কের কারণ নেই। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ সংলগ্ন জমিটি নিয়ে বহুদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা হলেও কিছু অসন্তুষ্ট গোষ্ঠী ফের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। পুলিশের দাবি, বিষয়টি ধর্মীয় নয়, বরং আইন ও দখল সংক্রান্ত সমস্যা, এবং সেই ভাবেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাজ্য সরকারের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহর ও শহরতলির এলাকায় দখল সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে তা প্রায়শই সামাজিক উত্তেজনার রূপ নেয়। সেই কারণেই প্রশাসনের উচিত আগাম পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখা।

সব মিলিয়ে, চৌমুঁয়ের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, সামান্য একটি বেআইনি কাঠামো ঘিরে কীভাবে বড় ধরনের অশান্তি তৈরি হতে পারে। তবে পুলিশের কড়া অবস্থান ও দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতি ও দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার দিকে।

Advertisements