ফেসবুকে ভুয়ো আইডি ISIS জঙ্গিদের! সতর্কবার্তা উপমুখ্যমন্ত্রীর

isis-fake-ids-on-social-media-chhattisgarh-deputy-cm-report

রায়পুর: ছত্তিশগড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক একটি বিবৃতি দিলেন রাজ্যের (ISIS)উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের মডিউল দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ISIS–এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা একাধিক প্ল্যাটফর্মে নাম-পরিচয় গোপন রেখে নানা ধরনের বার্তা ছড়াচ্ছে, যা নিরাপত্তা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উপমুখ্যমন্ত্রী শর্মা জানান, “ISIS-অনুপ্রাণিত এবং পাকিস্তানি নাশকতামূলক মডিউলের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রচার চালাচ্ছে। তারা নিজেদের পরিচয় আড়াল করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছে।” তাঁর কথায়, এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শুধু মতাদর্শ ছড়ানোই নয়, কখনও কখনও গোপন যোগাযোগ, প্ররোচনা এবং চরমপন্থায় দীক্ষিত করার মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডও চালানো হচ্ছে।

   

পিএম কিষান ২১তম কিস্তি পাননি? এখনই জেনে নিন কী করবেন

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার স্পেসে নজরদারি জোরদার করেছে। তবে বিজয় শর্মার এই মন্তব্য আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ডিজিটাল পরিসরকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতা এবং পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নতুন পথ দেখাচ্ছে।

সূত্রের খবর, ছত্তিশগড়ে সম্প্রতি বেশ কিছু ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা বিভাগ সতর্ক হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে কয়েকটি থেকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি মতাদর্শের প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একাধিক অ্যাকাউন্টে পাকিস্তানি ‘হ্যান্ডলার’-দের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। যদিও ঘটনা তদন্তাধীন, তবুও নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

বিজয় শর্মা আরও বলেন, “আজকের দিনে জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রধান অস্ত্র হল সাইবার স্পেস। তারা তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছে। ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে এরা অনলাইনে ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা ছড়ায় এবং কখনও কখনও ব্যক্তিগত যোগাযোগেও প্রবেশ করার চেষ্টা করে।”

তাঁর মতে, ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করা শুধু আইন এড়ানোর কৌশল নয়, সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার একটি পরিকল্পিত পথ। পাকিস্তানের বিভিন্ন মডিউল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় তরুণদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সাইবার সেলকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করা, অপপ্রচার ছড়ানো পেজ ও গ্রুপগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সাইবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বাড়ানো—এসবই এখন অগ্রাধিকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গোপন পরিচয় তৈরি করা এখন অত্যন্ত সহজ, এবং অ্যানোনিমিটি বা পরিচয় গোপনের সুযোগ তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলছে। সেক্ষেত্রে এমন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করা এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো অত্যন্ত জরুরি।

ছত্তিশগড় প্রশাসনের মতে, এখন সময় এসেছে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার। কোনও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখলে তা রিপোর্ট করা প্রয়োজন। সাইবার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতাই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হতে পারে।

উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিষয়টি শুধু ছত্তীসগড়ের সমস্যা নয়; গোটা দেশের জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা। ডিজিটাল যুগের জঙ্গি সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরে আরও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন