
আম্বালা: সীমান্ত পারের ‘হানিট্র্যাপে’র ফাঁদে পা দিয়ে ফের দেশের সুরক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ উঠল। ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনার অতি সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে হরিয়ানার আম্বালা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩১ বছর বয়সি এক যুবককে। ধৃতের নাম সুনীল। অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি।
প্রেমের ফাঁদে সর্বনাশ
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত মাস ছয়েক আগে। ফেসবুকে একটি ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে জনৈক এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় সুনীলের। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই প্রোফাইলটি আসলে ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর একটি ‘ফাঁদ’। ধীরে ধীরে আলাপের মোড় নেয় ঘনিষ্ঠতায়। অভিযুক্ত যুবককে প্রথমে আবেগীয়ভাবে প্রভাবিত করা হয় এবং পরে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেইল করে তথ্য হাতানো শুরু হয়।
তদারকির আড়ালে নজরদারি পেশায় একজন বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থার সুপারভাইজার ছিলেন সুনীল। আম্বালা এয়ারফোর্স স্টেশনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। এই সুযোগেই বায়ুসেনা ঘাঁটির মানচিত্র, সেনার গতিবিধি এবং বিভিন্ন ইউনিটের অবস্থান সংক্রান্ত গোপন নথির ছবি তুলে তিনি ওপারে পাঠাতেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আম্বালা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিএসপি বীরেন্দ্র কুমার জানান, “ধৃতকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মোবাইল থেকে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ভয়েস কল রেকর্ড উদ্ধার হয়েছে যা সরাসরি পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগসূত্র প্রমাণ করে।”
নজর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ISI Honeytrap IAF data leak
দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাচারের বিনিময়ে সুনীল কোনো বড় অংকের টাকা পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে গ্রেফতার হওয়া এই যুবকের নেপথ্যে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
ইতিমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই ঘটনার গভীরতা পরিমাপ করতে ময়দানে নেমেছে। বায়ুসেনা ঘাঁটির ঠিক কতটা গোপন তথ্য ইতিমধ্যে সীমান্ত পার হয়েছে, তা নিয়েই এখন সবথেকে বেশি উদ্বিগ্ন প্রশাসন।










