HomeBharatঅনুপ্রবেশ কি সমস্যা নাকি রাজনৈতিক খেলা?

অনুপ্রবেশ কি সমস্যা নাকি রাজনৈতিক খেলা?

- Advertisement -

কলকাতা: নির্বাচনের আবহে শাসক-বিরোধী উভয় অন্দরেই অন্যতম আলোচ্য বিষয় বলা যেতে পারে ‘অনুপ্রবেশ’। পশ্চিমবঙ্গ সহ অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপূর্বের সীমান্ত লাগোয়া রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশ বর্তমানে কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক সমস্যা। আর এই সমস্যায় শুধুমাত্র কোনও একটি বিশেষ রাজ্য নয়, বরং দেশের সার্বিক নিরাপত্তাও যে প্রশ্নের মুখে তা বলা বাহুল্য।

দেশের শাসক-বিরোধী উভয়ই জানে অনুপ্রবেশ একটি সমস্যা। কিন্তু এর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে সমস্যা জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই অধিক তৎপর উভয় শিবির। ‘অনুপ্রবেশ’-এর মত গুরুতর সামাজিক, রাজনৈতিক সমস্যাটি বর্তমানে একটি খেলায় পরিণত হয়েছে। সূত্র বলছে, নির্বাচনের আবহে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ‘অনুপ্রবেশ’-এর মত গুরুতর বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে মেরুকরণের রাজনীতিতে শাণ দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

   

একটি বিশেষ ধর্মাবলম্বি সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভাষার প্রেক্ষিতে ‘বিদেশি’ বলে দাগিয়ে দিতে দ্বিতীয়বার বিবেচনা করতে হয়না তাঁদের। অন্যদিকে, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশার মত বিজেপি শাসিত রাজ্যে ‘বাংলাদেশী’ সন্দেহে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারকে অস্ত্র করে বাঙালি অস্মিতার আবেগে শাণ দিচ্ছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবিয়ার ‘বাংলা কোনও ভাষাই নয়’ এর মত অসংবেদনশীল মন্তব্যের সমাধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তোমরা ফিরে এসো’ কখনই হতে পারে না।

স্পষ্টতই একপক্ষ যখন বিভেদের রাজনীতিতে শাণ দিচ্ছে, অন্যপক্ষ তখন সেই বিভেদকেই হাতিয়ার করে ভোট তুলতে মরিয়া। কিন্তু এতে আসলে ক্ষতি কাদের? ক্ষতি সীমান্ত লাগোয়া বাসিন্দাদের, ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে হয়রান হওয়া মানুষদের, নিজেরই রাজ্যে শহরে পড়তে আসা পড়ুয়ার। তাদের কাছে ভেসে যাওয়া খড়কুটোর মত ভরসা ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। কিন্তু প্রশ্ন হল, ডুবতে বসে যাদের উপর ভরসা করার মত আশার আলো জনগণ দেখছে, তারা সুদূরপ্রসারী কোনও সমাধান আনতে পারে নাকি মরশুমি পাখির মত কাল বদলে হারিয়ে যায়?

- Advertisement -
Devi Bhattacharya
Devi Bhattacharyahttps://kolkata24x7.in/
প্রশ্ন করতে, খুঁটিয়ে জানতে এবং উত্তর খুঁজতে ভালোবাসি। খবর অনুসন্ধান, ঘটনার অন্তরালের কারণ বিশ্লেষণ এবং সেগুলোকে শব্দে বুনে তোলার চেষ্টা করি। স্বচ্ছ, নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করার লক্ষ্য নিয়ে গত ৪ বছর ধরে এই প্রফেশনে যুক্ত আছি। এছাড়াও আবৃত্তি করতে, ভ্রমণ এবং সেই ভ্রমণকাহিনি লিখতে ভালোবাসি।
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular