রামলীলা মেলায় প্রেম, ধর্ম বদলে বিয়ের পিড়িতে আয়েষা

interfaith-marriage-bareilly-ramlila-fair

উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে এক আন্তঃধর্ম বিবাহকে ঘিরে নতুন করে চর্চা (Ramlila fair)শুরু হয়েছে। রামলীলা মেলায় আলাপ, তারপর দীর্ঘ চার বছরের প্রেম শেষ পর্যন্ত ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পিড়িতে বসেছেন আয়েষা। হিন্দু ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নতুন নাম হয়েছে অংশিকা। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি, বেরিলির অগস্ত্য মুনি আশ্রমে হিন্দু রীতি মেনে তাঁর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রেমিক মনু। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

সূত্রের খবর, বর্তমানে ২০ বছর বয়সি আয়েষার সঙ্গে মনুর পরিচয় হয়েছিল চার বছর আগে, একটি রামলীলা মেলায়। তখন থেকেই দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। পরিবারের অমত, সামাজিক বাধা সব কিছুর মধ্যেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত দু’জনেই সিদ্ধান্ত নেন একসঙ্গে সংসার পাতার। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথেই ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে।

   

টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত ইস্টবেঙ্গল, খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ অ্যান্থনির

বিবাহের আগে আয়েষা স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ধর্মান্তরের পর তিনি নিজের নাম বদলে রাখেন অংশিকা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, আয়েষা জানিয়েছেন, তিনি নিজের জীবনে “স্বাধীনতা” চান। তাঁর কথায়, ইসলাম ধর্মে ট্রিপল তালাক, হালালা, হিজাবের মতো প্রথা নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। সেই কারণেই তিনি নিজের ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

৯ জানুয়ারি অগস্ত্য মুনি আশ্রমে হিন্দু রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের ছবি ও একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সিঁদুর পরা অংশিকা ও মনু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভিডিওতে অংশিকাকে হাসিমুখে বলতে শোনা যায়, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে খুশি এবং নতুন জীবন শুরু করতে চান।

এই ঘটনার পর এক্স (পূর্বতন টুইটার)-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রতিক্রিয়ার ঢল নেমেছে। বেশিরভাগ পোস্টেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী বা প্রো-হিন্দু অ্যাকাউন্টগুলি এই বিয়েকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ভালোবাসার জয় হিসেবে তুলে ধরছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি আড়াই হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে সকলেই যে বিষয়টিকে এক চোখে দেখছেন, তা নয়। আন্তঃধর্ম বিবাহ ও ধর্মান্তর নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ধর্মান্তর কতটা স্বেচ্ছায় হয়েছে, কোনও চাপ ছিল কি না। যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় আয়েষা নিজেই বারবার দাবি করেছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই ধর্মান্তর ও তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন কার্যকর রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই বিয়ে প্রশাসনের নজরেও এসেছে বলে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আইনি জটিলতার কথা জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিয়ে আইন মেনেই হয়েছে এবং দু’পক্ষের সম্মতিতেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিয়েছে প্রেম, ধর্ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া এবং ধর্ম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কতটা এই বিতর্ক নতুন নয়, তবে বেরিলির এই বিয়ে তা আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, রামলীলা মেলায় শুরু হওয়া এক সম্পর্ক চার বছরের পথ পেরিয়ে বিয়ের পিড়িতে পৌঁছেছে। আয়েষা থেকে অংশিকা এই রূপান্তর শুধু নাম বা ধর্মের নয়, বরং এক নতুন জীবনের সূচনার প্রতীক বলেই দেখছেন অনেকে। আবার অন্য পক্ষের মতে, এই ধরনের ঘটনায় সমাজের আরও গভীর প্রশ্ন উঠে আসে। বিতর্ক থাকলেও, এই মুহূর্তে অংশিকা ও মনু নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় এবং নতুন জীবনের শুরুটা উদযাপনেই ব্যস্ত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন