পৃথিবীর পথে ফিরছেন ভারতের গর্ব, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভাংশু শুক্লা। অ্যাক্সিয়ম স্পেসের পাঠানো আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (ISS) সফরের অংশ হিসেবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। এবার সেই অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4) মিশনের সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে সোমবার (ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ) পৃথিবীর পথে রওনা দিয়েছেন তিনি ও তাঁর তিন সঙ্গী। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার ভোররাতে (ভারতীয় সময় আনুমানিক তিনটে নাগাদ) ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে তাঁদের মহাকাশযান অবতরণ করবে।
এই মিশন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রাকেশ শর্মার প্রায় চার দশক পর ফের এক ভারতীয় মহাকাশচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পা রাখলেন। শুভাংশু শুক্লা হচ্ছেন ভারতের প্রথম প্রাইভেট আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন সফরকারী, যাঁকে নাসা ও অ্যাক্সিয়ম স্পেসের সহযোগিতায় পাঠানো হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও সেই খরচের অনেকটাই ভারত সরকারের এবং বিশেষভাবে ISRO ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।
গগনযানের প্রস্তুতি মিশনের অংশ:
এই মিশনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে ভারতের গগনযান প্রকল্পের দিক থেকেও। গগনযান, ভারতের নিজস্ব মানুষবাহী মহাকাশযান পাঠানোর প্রকল্প। তারই পরীক্ষামূলক ও প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শুভাংশু শুক্লাকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তিনি তাঁর দক্ষতা, মানসিক দৃঢ়তা, ও মহাকাশে দীর্ঘদিন থাকার সহনশীলতা সফলভাবে প্রমাণ করেছেন।
মহাকাশে থাকা, কাজ এবং ফেরার পরিকল্পনা:
মহাকাশে শুভাংশু শুক্লার কাজ ছিল বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, স্পেস স্টেশন পরিচালনায় সহায়তা, ও হিউম্যান ফ্যাক্টর এনালাইসিস। প্রায় এক সপ্তাহ কাটানোর পর এখন তাঁর ও সহযাত্রীদের ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মহাকাশযানটি আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে আনডকিং (undocking) করেই ধীরে ধীরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে প্রবেশ করবে। এই পর্ব সরাসরি সম্প্রচার করবে নাসা, যার সময় নির্ধারিত হয়েছে ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ।
পৃথিবীতে ফেরার পর কী হবে?
পৃথিবীতে অবতরণের পরে চার মহাকাশচারীকে রিহ্যাব সেন্টারে রাখা হবে অন্তত সাত দিনের জন্য। এই সময় তাঁরা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ও পরিবেশের সঙ্গে আবার মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করবেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার ফলে শরীরে যে শূন্য মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব পড়ে, তার পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়।
এই মিশন শুধু ভারতের জন্য গর্ব নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতের গগনযান মিশনে শুভাংশুর অভিজ্ঞতা বিশাল ভূমিকা নেবে, এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
সত্যিই, শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ যাত্রা নতুন প্রজন্মের কাছে এক প্রেরণার বার্তা। “আমরা পারি” – এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো ভারতের মহাকাশ অভিযানের আগামী পথ তৈরি করবে।