
ভারতের পরিষেবা খাত (Indias Services Sector) গত আগস্ট মাসে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার অর্জন করেছে, যা শক্তিশালী চাহিদার দ্বারা চালিত হয়েছে। এইচএসবিসি-র ইন্ডিয়া সার্ভিসেস পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই), যা এসএন্ডপি গ্লোবাল দ্বারা সংকলিত, জুলাই মাসে ৬০.৫ থেকে আগস্টে ৬২.৯-এ উন্নীত হয়েছে।
তবে, এই দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির চাপও তীব্র হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে দ্রুততম হারে দাম বৃদ্ধির দিকে নিয়ে গেছে। এই তথ্যগুলি রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে।
এই অভূতপূর্ব বৃদ্ধি এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা গত ত্রৈমাসিকে ৭.৮% হারে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপের ফলে আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে এই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই শুল্ক ৭ আগস্ট থেকে ২৫% হারে কার্যকর হয়েছে, এবং ২৭ আগস্ট থেকে আরও ২৫% বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৫০% হয়েছে। এইচএসবিসি-র প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ প্রাঞ্জুল ভান্ডারী বলেন, “ভারতের পরিষেবা পিএমআই বিজনেস অ্যাকটিভিটি ইনডেক্স গত মাসে ১৫ বছরের শীর্ষে পৌঁছেছে, যা নতুন অর্ডারের তীব্র বৃদ্ধির ফল।”
নতুন ব্যবসা, যা চাহিদার একটি মূল সূচক, জুন ২০১০ সালের পর থেকে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে প্রসারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাহিদাও শক্তিশালী হয়েছে, রফতানি অর্ডারগুলি গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শক্তিশালী চাহিদা কোম্পানিগুলিকে তাদের ক্রমবর্ধমান খরচ ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
আউটপুট মূল্য মুদ্রাস্ফীতি জুলাই ২০১২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, এবং ইনপুট খরচও গত নয় মাসের মধ্যে দ্রুততম হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তীব্র মূল্য চাপের ফলে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি, যা জুলাই মাসে আট বছরের নিম্নতম ১.৫৫%-এ নেমেছিল, শীঘ্রই আবার বাড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।
ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস তিন মাসের শীর্ষে পৌঁছেছে, যা বিজ্ঞাপন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক চাহিদা পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে। তবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। কম্পোজিট পিএমআই, যা পরিষেবা এবং উৎপাদন খাতের সমন্বয় করে, আগস্টে ৬৩.২-এ উন্নীত হয়েছে, যা জুলাই মাসের ৬১.১ থেকে ১৭ বছরের শীর্ষে পৌঁছেছে। এটি ভারতের অর্থনীতির উভয় খাতে ব্যাপক গতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়ছে এই কারণে যে, খাদ্য মূল্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রুড তেলের দাম ভারতের মুদ্রাস্ফীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত ক্রুড তেলের একটি নেট আমদানিকারক দেশ হিসেবে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সরবরাহ সংকটের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে এটি সরাসরি জ্বালানি এবং পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে।
এছাড়াও, কৃষি খাতের উপর বর্ষার নির্ভরতা মুদ্রাস্ফীতির জন্য একটি ঝুঁকি। যদিও ২০২৫ সালের জন্য উপরোক্ত স্বাভাবিক বর্ষার পূর্বাভাস আশাবাদী, তবুও আবহাওয়া-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এই প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, মার্কিন শুল্ক নীতি ভারতের রফতানি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই শুল্ক ভারতের পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং শিল্পে। তবে, দেশীয় চাহিদা এবং রফতানি অর্ডারের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এই প্রভাবকে কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছে। জুলাই মাসে মুদ্রাস্ফীতি ১.৫৫% হলেও, এই নতুন তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে মুদ্রাস্ফীতি শীঘ্রই বাড়তে পারে, যা আরবিআই-এর সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন যে, সরকার এবং আরবিআই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকে এবং ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ইন্ডিগো ফ্লাইটে মদ্যপ যাত্রীর তুমুল বচসা! কলকাতাগামী ফ্লাইট ছাড়ল তিন ঘণ্টা দেরিতে
এই পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে। পরিষেবা খাতের এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রমাণ হলেও, মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।










