
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে (US Army)একটি গল্প, যা ভারতের রিজার্ভেশন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। একজন ভারতীয় যুবক, যিনি জেনারেল ক্যাটাগরির হওয়ায় মাত্র ৩ নম্বরের জন্য প্যারামিলিটারি ফোর্সে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদের পরীক্ষায় সিলেক্ট হতে পারেননি, তিনি এখন আমেরিকান আর্মিতে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনা অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে ভারতে মেধার মূল্য কতটা?
আর বিদেশে কি সত্যিই মেধাই সব?গল্পটি শুরু হয় SSC CPO (Central Police Organization) পরীক্ষা থেকে, যা দিল্লি পুলিশ, CAPF (CRPF, BSF, CISF ইত্যাদি)-তে সাব-ইন্সপেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদের জন্য হয়। এই পরীক্ষায় লিখিত, ফিজিক্যাল টেস্ট, মেডিক্যাল ও ইন্টারভিউ সব মিলিয়ে মেধার ভিত্তিতে সিলেকশন হয়। কিন্তু ক্যাটাগরি অনুযায়ী কাট-অফ মার্কস ভিন্ন হয়।
জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থীদের জন্য কাট-অফ সবচেয়ে উঁচু থাকে, কারণ রিজার্ভেশনের কারণে SC/ST/OBC-দের জন্য ছাড় দেওয়া হয়।এই যুবকের নাম ভিনি ঠাকুর (Vinny Thakur) বলে জানা গেছে। তিনি বলছেন, পরীক্ষায় তাঁর স্কোর এতটাই কাছাকাছি ছিল যে মাত্র ৩ নম্বর কম পড়ায় লিস্টে ঢোকেনি। জেনারেল ক্যাটাগরির কারণে কাট-অফের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি সরকারি চাকরির স্বপ্ন ছেড়ে দেন।
তারপর আমেরিকায় চলে যান। সেখানে মাত্র ৩ মাস কঠোর পরিশ্রম করে ASVAB (Armed Services Vocational Aptitude Battery) পরীক্ষায় ৬৮ নম্বর পেয়ে US আর্মিতে সিলেক্ট হন। ভিডিওতে তিনি বলছেন, “ভারতে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বিদেশে গিয়ে দেখলাম, মেধা আর পরিশ্রমের মূল্য আছে।”এই গল্প ভাইরাল হওয়ার পর X (পূর্বের টুইটার)-এ হাজার হাজার লাইক, রিপোস্ট পেয়েছে।
অনেকে বলছেন, এটা রিজার্ভেশনের ‘অন্যায়’-এর প্রমাণ। জেনারেল ক্যাটাগরির যুবকরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, তাদের মেধা থাকলেও ক্যাটাগরির কারণে সুযোগ হারান। উদাহরণস্বরূপ, CAPF বা SSC CPO-তে জেনারেলের কাট-অফ ১২০-১৩০+ হয়, যেখানে রিজার্ভড ক্যাটাগরিতে ৯০-১০০-এর মধ্যে সিলেকশন হয়। এতে মেধাবী ছেলেমেয়েরা হতাশ হন, বিদেশমুখী হন।
অন্যদিকে, রিজার্ভেশনের সমর্থকরা বলেন, এটা সামাজিক ন্যায়ের জন্য দরকার। শতাব্দীর পর শতাব্দী বঞ্চিত সম্প্রদায়কে সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, অতিরিক্ত রিজার্ভেশন মেধাকে কোণঠাসা করতে পারে। আমেরিকান আর্মিতে কোনও ক্যাটাগরি নেই শুধু ASVAB স্কোর, ফিটনেস ও ট্রেনিং। সেখানে মেধাই সব। ভিনির মতো অনেকে বলছেন, “ভারতে স্বপ্ন ভাঙে, বিদেশে নতুন করে শুরু করি।”




