ভারতের রেল ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। দক্ষিণ রেলের চেন্নাই ডিভিশন এই ধরনের অব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে। রেলের অভিযোগ, কিছু ভ্লগার ইচ্ছাকৃতভাবে রেলের নিয়মকানুন ও কার্যপ্রণালী নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন, যা সরাসরি যাত্রীদের ভুল ধারণার জন্ম দিচ্ছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, অনেক ভ্লগার নিজেদের রেলের কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ভিডিও বা পোস্ট তৈরি করছেন। এই ভিডিওগুলোতে যাত্রীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ভ্লগার যাত্রীদের জানাচ্ছেন যে নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্রক্রিয়া মানা বাধ্যতামূলক নয় বা রেলের কোনও নিয়ম তুচ্ছ করা যেতে পারে। এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে রেলের নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর হুমকি। ভারতীয় রেলের দাবি, যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া মানেই কেবল আইনগত সমস্যা নয়, বরং এটি রেল চলাচলের নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে। অজানা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রীরা অনেক সময় বিপজ্জনক কাজ করতে পারেন—যেমন ট্রেনের বাইরে ঝুঁকি নিয়ে ছবি তোলা, বৈধ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ, নির্ধারিত সীট বা কোচের নিয়ম না মেনে ওঠা-নামা। এই ধরনের আচরণ ট্রেন চলাচলে সমস্যা তৈরি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়।
চেন্নাই ডিভিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভুল তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে**। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও পোস্টগুলি মনিটর করা হবে এবং যাদের দ্বারাই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের তথ্যের জন্য যে কেউ দায়ী হতে পারে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে।
দক্ষিণ রেলের চেন্নাই ডিভিশন ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে, সকল ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্যকে সরকারি ও স্বীকৃত সোর্স থেকে যাচাই করা হবে। যেকোনো পোস্ট বা ভিডিও, যা রেলের নিয়মকানুনকে বিকৃতভাবে তুলে ধরে, তা সরিয়ে ফেলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এছাড়াও ভ্লগারদের সচেতন করার জন্য সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে যাতে তারা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি না করে। ভারতীয় রেল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিয়মিত যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং রেল পরিষেবার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়ো তথ্য ছড়ানো মানে শুধু একটি ভুল ধারণা সৃষ্টি নয়, বরং এটি জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। রেল জানিয়েছে, যাত্রীরা নিজে সতর্ক থাকুন, নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে তথ্য নিন এবং সামাজিক মাধ্যমে যে কোনও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখলে রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অতি দ্রুততা এবং প্রতিযোগিতার কারণে অনেক ভ্লগার ক্লিকবেট বা ভাইরাল কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে নিয়মভঙ্গমূলক তথ্য প্রচার করছেন। তবে, রেলের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে না, ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা কমবে এবং রেলের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে।
