S-4: ভারতীয় নৌবাহিনী দ্রুত তার শক্তি বাড়াচ্ছে এবং এখন নৌবাহিনীর পারমাণবিক সাবমেরিনগুলিতে নতুন এবং আরও মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ভারতের নতুন অরিহন্ত-শ্রেণীর পারমাণবিক সাবমেরিন S-4-এ অত্যাধুনিক K-5 ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা হবে, যা অরিধামান নামেও পরিচিত। যার রেঞ্জ হবে ৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। সমুদ্র থেকে ছোড়া হলে অর্ধেক পৃথিবীর ওপর আঘাত হানবে। পারমাণবিক সাবমেরিনে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতের সামুদ্রিক শক্তি অনেক বেড়ে যাবে। INS Aridaman অর্থাৎ S-4 2025 সালে শীঘ্রই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমাগত তার অরিহন্ত-শ্রেণীর সাবমেরিনগুলিকে আপগ্রেড করছে। এর মধ্যে সর্বাধুনিক এস-৪০০ সাবমেরিনে থাকবে উন্নত প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করবে। ফলে ভারত, চিন ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর ওপর কৌশলগত সুবিধা পাবে।
K-5 মিসাইলের বৈশিষ্ট্য
K-5 একটি সাবমেরিন লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM)। এটি শুধুমাত্র ভারতে বিকশিত হয়েছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ। এর রেঞ্জ সম্পর্কে কথা বললে, এটি 5000 থেকে 6000 কিলোমিটার (হালকা ওয়ারহেড সহ 8,000 থেকে 9,000 কিলোমিটার) এবং ওয়ারহেডের ক্ষমতা 2000 কেজি। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি MIRV প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং এটি একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারে। তা ছাড়া, এর পাল্টা ব্যবস্থা অর্থাৎ শত্রু রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ভারতের সামুদ্রিক এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে চিন, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে হামলা হতে পারে।
ভারত কিছুদিন আগে দেশীয় পারমাণবিক সাবমেরিন (SSBN) S-4 লঞ্চ করেছিল। বর্তমানে, ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি অরিহন্ত শ্রেণীর এসএসবিএন রয়েছে – আইএনএস অরিহন্ত এবং আইএনএস আরিঘাট, যা গভীর সমুদ্রে টহল দেয়। সম্প্রতি চালু হওয়া S-4 সাবমেরিন ভারতের পারমাণবিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়বে
ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমাগত তার পারমাণবিক সাবমেরিন বহরকে শক্তিশালী করছে। এখন এটি শুধু ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৈশ্বিক স্তরে তার শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হবে। K-5, K-6 এবং অগ্নি-5-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনী খুব শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থানে থাকবে।