
ঢাকা: ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (Indian High Commission Dhaka)। ‘নিরাপত্তাগত কারণ’ দেখিয়ে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপের পরেই বাংলাদেশে বেড়েছে উত্তেজনা।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের ডাকা লং মার্চকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে এই মার্চের ঘোষণা আসার পরপরই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে ভারতের। বিশেষ করে কিছু উগ্রবাদী উপাদানের কার্যকলাপ, যারা হাইকমিশনের আশেপাশে অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনা গত কয়েকদিনের অ্যান্টি-ইন্ডিয়া বক্তব্য এবং হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে।
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গেম ওভার’! SIR-এ নাম বাদ পড়তেই তোপ বিজেপির
১২ ডিসেম্বর ঢাকায় একজন ডানপন্থী ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। হাদি জুলাই বিপ্লবের (২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন) অন্যতম নেতা এবং শেখ হাসিনা-বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগ করে যে, এই হামলার পিছনে ভারত এবং আওয়ামী লীগের যোগসাজশ থাকতে পারে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে অ্যান্টি-ইন্ডিয়া মিছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি ছড়ানো শুরু হয়।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ‘জুলাই ওইক্য’ নামে একটি মার্চের ডাক দেওয়া হয় ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে। এই মার্চে জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত কিছু উগ্র গোষ্ঠী এবং ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে কিছু চরমপন্থী উপাদানের কার্যকলাপ, যারা ভারতীয় মিশনের চারপাশে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করছে।”
মন্ত্রক আশা প্রকাশ করেছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা মেনে মিশন এবং পোস্টগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ঘোষণার পরপরই ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) বিকেল ২টায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাইকমিশন চত্বরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এই উত্তেজনার পিছনে আরেকটি বড় কারণ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর বিতর্কিত বক্তব্য।
সোমবার একটি সমাবেশে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশকে অস্থির করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের আশ্রয় দেওয়া হবে। এই বক্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হয়েছে। হাসনাত জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সমন্বয়কারী এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছাকাছি ব্যক্তি। তাঁর এই বক্তব্য দু’দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।










