নয়াদিল্লি, ২ জানুয়ারি: ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) শীঘ্রই এমন একটি পদক্ষেপ নিতে চলেছে যা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে একটি নজির স্থাপন করবে। সূত্রের খবর, সেনাবাহিনী রামজেট প্রযুক্তিতে সজ্জিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রযুক্তিটি আইআইটি মাদ্রাজ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে এবং বন্দুকের পরিসর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে, তাও প্রাণঘাতীতা হ্রাস না করে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন প্রযুক্তিটি আর্মি টেকনোলজি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সিস্টেমটি সেনাবাহিনীতে ইতিমধ্যেই পরিষেবাপ্রাপ্ত সমস্ত ১৫৫ মিমি বন্দুকের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর অর্থ হল নতুন বন্দুক কেনার প্রয়োজন হবে না, বরং বিদ্যমান অস্ত্র দিয়ে দীর্ঘ পরিসরে নির্ভুল আক্রমণ সম্ভব হবে।
Indian Army to be the world’s first army that will use ramjet power to fire its 155mm artillery shells, resulting in a range increase by 30-50% while retaining the lethality.https://t.co/9Rx0X5Z0tG pic.twitter.com/VZQCPCrQ8J
— Defence Decode® (@DefenceDecode) January 2, 2026
২০১৩ সালের ঘাটতি থেকে ২০২৬ সালের শক্তিতে
এই অর্জন তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০১৩ সালের সিএজি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে তখন মাত্র ১০ দিনের তীব্র যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ছিল, যেখানে ৪০ দিনের মান ছিল। এখন রামজেটের মতো উন্নত এবং দেশীয় শেলগুলি কেবল প্রাণঘাতী ক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না বরং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতিও জোরদার করবে।
আত্মনির্ভর ভারতের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ
র্যা মজেট শেলগুলি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং দেশেই তৈরি করা হবে। এটি আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করবে এবং সংকটের সময় গোলাবারুদের ঘাটতির মতো পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে।
এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দীর্ঘ পাল্লা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং আরও কার্যকর অগ্নিশক্তি প্রদান করবে। রামজেট আর্টিলারি শেল মোতায়েনের মাধ্যমে, ভারত পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধে একটি নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রযুক্তি সেনাবাহিনীতে ইতিমধ্যে ব্যবহৃত M777, ধানুশ এবং অন্যান্য 155 মিমি হাউইটজারগুলির সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এর অর্থ হল নতুন বন্দুকের প্রয়োজন হবে না, যার ফলে খরচ এবং লজিস্টিক বোঝা উভয়ই হ্রাস পাবে।
