বিশ্বে প্রথম র‍্যামজেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিরক্ষায় ইতিহাস ভারতের

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও (artillery shell)এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। খুব শিগগিরই ভারত বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে র‍্যামজেটচালিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি…

indian-army-ramjet-powered-155mm-artillery-shell

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও (artillery shell)এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। খুব শিগগিরই ভারত বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে র‍্যামজেটচালিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল মোতায়েন করতে চলেছে। আইআইটি মাদ্রাজ ও ভারতীয় সেনার যৌথ গবেষণায় তৈরি এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements

এই নতুন প্রজন্মের আর্টিলারি শেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি প্রচলিত গোলার তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম, তাও আবার প্রাণঘাতী ক্ষমতা বা লেথালিটিতে কোনও আপস না করেই। আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, যেখানে দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা বড় ভূমিকা পালন করে, সেখানে এই প্রযুক্তি ভারতীয় সেনাকে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা দেবে।

   

POCSO মামলার নিষ্পত্তিতে রেকর্ড ভারতে

র‍্যামজেট একটি এয়ার-ব্রিদিং ইঞ্জিন প্রযুক্তি, যা উচ্চগতিতে চলার সময় বাইরের বাতাস ব্যবহার করে থ্রাস্ট তৈরি করে। সাধারণ আর্টিলারি শেল যেখানে নির্দিষ্ট দূরত্বের পর গতিশক্তি হারাতে শুরু করে, সেখানে র‍্যামজেটচালিত শেল মাঝপথে নিজেই অতিরিক্ত গতি ও শক্তি অর্জন করতে পারে। ফলে শেল অনেক বেশি দূরে গিয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

এই অত্যাধুনিক সিস্টেম ইতিমধ্যেই Army Technology Board-এর অনুমোদন পেয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই র‍্যামজেট শেলকে ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের ১৫৫ মিমি আর্টিলারি গানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। এর ফলে নতুন করে পুরো অস্ত্রব্যবস্থা বদলানোর প্রয়োজন পড়বে না, যা সময় ও খরচ দুটোই বাঁচাবে।

এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যদি ২০১৩ সালের একটি CAG রিপোর্ট-এর দিকে তাকানো যায়। সেই রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছিল, ভারতীয় সেনার কাছে তখন তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মাত্র ১০ দিনের গোলাবারুদের মজুত ছিল, যেখানে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী তা হওয়ার কথা ছিল অন্তত ৪০ দিনের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের উপর জোর বাড়ানো হয়।

আজ এক দশকেরও বেশি সময় পরে, ভারত শুধু সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠছে না, বরং বিশ্বকে পথ দেখানোর মতো প্রযুক্তি তৈরি করছে এটাই এই সাফল্যের আসল বার্তা। এই র‍্যামজেটচালিত আর্টিলারি শেল নিঃসন্দেহে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের এক বড় সাফল্য। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে, দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত যে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, তারই প্রমাণ এই প্রকল্প।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর ও দীর্ঘপাল্লার। সেখানে এই ধরনের স্মার্ট ও শক্তিশালী আর্টিলারি সিস্টেম ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। সব মিলিয়ে, র‍্যামজেটচালিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল শুধু একটি অস্ত্র নয় এটি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

Advertisements