
জম্মু ও কাশ্মীরের হান্ডওয়ারা–নৌগাম সেক্টরে নিরাপত্তা বাহিনী (Indian Army) আবারও বড়সড় সাফল্য পেল। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) সংলগ্ন নীরিয়ান অরণ্য এলাকায় যৌথ অভিযানে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ অস্ত্রভাণ্ডার। যার ফলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একটি সম্ভাব্য জঙ্গি চক্রান্তকে বড় আকারে ভেস্তে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরণ ও পরিমাণ দেখে প্রবলভাবে অনুমান করা হচ্ছে—এই অস্ত্রভাণ্ডার সীমান্ত পেরিয়ে কোনো বড় হামলার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল।
❖ বিশেষ সূত্রে তথ্য, তারপর শুরু অভিযান
হান্ডওয়ারা পুলিশ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর নৌগাম ব্রিগেড গোপন সূত্রে খবর পায় যে নীরিয়ান অরণ্য এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে একটি কৌশলগত জঙ্গি আস্তানা। তথ্য ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, তাই দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম অরণ্য সত্ত্বেও বিশেষ দল এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং শুরু হয় কোম্বিং অপারেশন।
বহুক্ষণ তল্লাশির পর গভীর জঙ্গলের একটি পাহাড়ি গুহা সদৃশ জায়গায় চিহ্নিত হয় জঙ্গিদের গোপন স্টোরেজ পয়েন্ট। জঙ্গিরা ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত অভিযানের কারণেই তারা অস্ত্রের কোনোটিই নিয়ে পালাতে পারেনি।
❖ উদ্ধার হল আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের অস্ত্রশস্ত্র
যৌথ দলের সদস্যরা যখন আস্তানাটি ভাঙতে শুরু করেন, তখন দেখা যায় ভিতরে রয়েছে আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের একাধিক প্রাণঘাতী অস্ত্র। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা দেখে স্পষ্ট—এই চক্রটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগাযোগের সঙ্গে সংযুক্ত।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরক:
দুটি M-সিরিজ অ্যাসল্ট রাইফেল (সম্ভবত M4 ভ্যারিয়েন্ট) — সঙ্গে চারটি ম্যাগাজিন
দুটি চায়নিজ পিস্তল — সঙ্গে তিনটি ম্যাগাজিন
দুটি হাতবোমা
একাধিক লাইভ রাউন্ড বা জীবন্ত গুলি
M4 জাতীয় অ্যাসল্ট রাইফেল সাধারণত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বা সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী শিবিরে ব্যবহৃত হয়। ফলে গোয়েন্দাদের ধারণা, এই অস্ত্র হস্তান্তরের পেছনে পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্কের ভূমিকা থাকা খুবই সম্ভব।
❖ বড়সড় হামলার প্রস্তুতি ছিল কিনা উঠছে প্রশ্ন
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরণ দেখে সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান—এগুলো একবারে কোনো বড় হামলা বা একাধিক ছোট আকারের টার্গেট আক্রমণে ব্যবহার করা হতো। সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি করার ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায়।
নীরিয়ান অরণ্য এলাকা অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন এবং এমন জায়গায় জঙ্গিরা দীর্ঘসময় অস্ত্র মজুত করে রাখতে পারে, কারণ নজরদারি কঠিন। তাই এই উদ্ধার নিরাপত্তা বাহিনীর ‘ডিটেকশন ও নিউট্রালাইজেশন’ সক্ষমতা যে আরও শক্তিশালী হয়েছে তার বড় প্রমাণ।
❖ FIR নথিভুক্ত, তদন্ত শুরু
ঘটনাটির পরপরই ক্বালামাবাদ থানায় 39/2025 নম্বর এফআইআর রুজু করা হয়েছে। তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে যারা অস্ত্রগুলির উৎস, পাচার রুট, লজিস্টিক সাপোর্ট সিস্টেম এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকেও নজর দিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র পরিবহণে কোন ধরনের রুট ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্থানীয় কেউ যুক্ত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। সীমান্তপারে বসে থাকা হ্যান্ডলারদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
❖ সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
অভিযানে যুক্ত অফিসারদের মতে, এই অপারেশন প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় একটুও ঢিলেমি দিচ্ছে না। জঙ্গিদের প্রত্যেকটি নড়াচড়া নজরে রয়েছে এবং যেকোনো সময় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়—
“নিরাপত্তা বাহিনী শান্তি, জননিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা বাড়লেও সেনা ও পুলিশের তৎপরতায় অধিকাংশ পরিকল্পনাই ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি বোধ করছেন।
এই উদ্ধার কেবল একটি অস্ত্র মজুত উদঘাটন নয়; বরং এটি এমন একটি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রান্তকে ভেস্তে দেওয়া হয়েছে, যা সফল হলে প্রাণহানি ও অস্থিরতার ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুততা, গোয়েন্দা তথ্যের যথার্থতা এবং যৌথ অভিযানের সমন্বয় আবারও প্রমাণ করল—জম্মু ও কাশ্মীরের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা যতই হোক, ভারতীয় বাহিনী প্রস্তুত এবং প্রতিটি পদক্ষেপে এক ধাপ এগিয়ে।










