নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর: যুদ্ধের পরিবর্তনশীল পদ্ধতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) একটি নিবেদিতপ্রাণ ড্রোন বাহিনী (Indian Army Drone Force) তৈরির পরিকল্পনা করছে। প্রকৃতপক্ষে, সেনাবাহিনী এখন গোয়েন্দা অভিযান থেকে শুরু করে স্ট্রাইক অপারেশন পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ড্রোনের একটি পৃথক এবং সংগঠিত ইউনিট তৈরি করবে।
এর প্রাথমিক লক্ষ্য হল যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের হতাহতের সংখ্যা কমানো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুর উপর কর্তৃত্ব অর্জন করা। ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ধারণাটি অন্য কোথাও থেকে নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত থেকে পেয়েছে যে এখন কেবল ট্যাঙ্ক এবং কামান দিয়ে নয়, ছোট এবং মারাত্মক ড্রোন দিয়েও যুদ্ধ জেতা যাবে।
এই বিষয়টি মাথায় রেখে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। সেনাবাহিনী এখন কেবল ড্রোন কিনছে না, বরং একটি সম্পূর্ণ ‘ড্রোন বাহিনী’ তৈরি করছে যাতে বিভিন্ন কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ ড্রোন এবং সেগুলি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত সৈন্য থাকবে। তাহলে, এর ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কী কী সুবিধা হবে এবং কীভাবে তারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে? আসুন সহজ ভাষায় এটি বুঝতে পারি।
ড্রোন বাহিনীর কাজ কী?
এই নতুন বাহিনী প্রয়োজনে রিকনেসান্স (ISR), লজিস্টিক ডেলিভারি, শত্রুর রাডার জ্যাম করতে এবং ‘কামিকাজে’ আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে, যাতে এই ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে এবং তাদের আক্রমণ করতে সক্ষম হবে। একই সাথে, এই প্রকল্পটি কেবল সেনাবাহিনীর যুদ্ধশক্তি বৃদ্ধি করবে না বরং ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভারতের ‘ড্রোন ফোর্স’ দেখতে কেমন হবে?
সেনাবাহিনী যে ড্রোন বাহিনী প্রস্তুত করছে তাতে বিভিন্ন ধরণের মেশিন থাকবে। এগুলোকে ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ও বলা হয়। এরা তাদের লক্ষ্যবস্তু না পাওয়া পর্যন্ত বাতাসে ঘোরাফেরা করে এবং তারপর এর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে উড়িয়ে দেয়। এটি এমন কয়েক ডজন ড্রোনের দল যারা একসাথে আক্রমণ করে। শত্রুর পক্ষে একসাথে ৫০টি ড্রোনকে আটকানো অসম্ভব।
এই ড্রোনগুলি সিয়াচেনের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোতায়েন থাকা সৈন্যদের কাছে ওষুধ, খাবার এবং গোলাবারুদও পৌঁছে দেবে। এই ড্রোনগুলি শত্রু অঞ্চলের গভীরে প্রবেশ করতে এবং তাদের কমান্ড সেন্টার এবং রাডার ধ্বংস করতেও সক্ষম হবে।
