বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ সামরিক শক্তির মুকুট ভারতের মাথায়

নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালে এসে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল ভারত (India third largest military power 2025)। সামরিক শক্তির নিরিখে ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম…

india-third-largest-military-power-2025-defence-growth

নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালে এসে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল ভারত (India third largest military power 2025)। সামরিক শক্তির নিরিখে ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একদিকে যেমন রেকর্ড পরিমাণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অন্যদিকে অস্ত্র রফতানিতে অভাবনীয় সাফল্য সব মিলিয়ে ভারতের সামরিক সক্ষমতা এখন বিশ্বমঞ্চে নতুন করে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

Advertisements

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শুধু দেশীয় চাহিদা মেটানোই নয়, ভারত এখন একশোরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করছে। এই রফতানির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৪,০০০ কোটি টাকা, যা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির বড় সাফল্য হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

   

বিজেপির ঐতিহাসিক জয়, কেরালার প্রথম মেয়র ভি ভি রাজেশ

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৬৫ শতাংশই দেশীয়ভাবে নির্মিত। যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক, কামান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সব ক্ষেত্রেই দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে শুধু বিদেশি নির্ভরতা কমেনি, বরং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও গবেষণার সুযোগও বেড়েছে বহুগুণ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভারতের সামরিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী প্রদর্শন হিসেবে উঠে এসেছে। এই অপারেশনে ভারতের তৈরি ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, অপারেশন সিঁদুর তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটতে চলেছে ভারত। সূত্রের খবর, আগামী বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়তে পারে। এই বাড়তি অর্থ মূলত ব্যয় করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক যুদ্ধবিমান, নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন এবং নৌবাহিনীর সম্প্রসারণে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ শুধু স্থলসীমায় সীমাবদ্ধ নয়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। সেই কারণেই এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার, ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিন নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে, যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভবিষ্যতের যুদ্ধ যে শুধুমাত্র বন্দুক বা ট্যাঙ্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তথ্য, প্রযুক্তি ও অটোমেশনের উপর নির্ভর করবে এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি হিসেবে ভারতের উত্থান শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কথা এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, রফতানি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সব ক্ষেত্রেই ভারত যে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

Advertisements