HomeBharatমঙ্গল গ্রহে ইতিহাস গড়তে মন কি বাত মোদীর

মঙ্গল গ্রহে ইতিহাস গড়তে মন কি বাত মোদীর

- Advertisement -

নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রার পথ আরও গতিশীল, আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার অনুষ্ঠিত তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১২৮তম পর্বে দেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে মহাকাশ সংস্থা ISRO-র অবিরাম পরিশ্রম সবকিছুকেই তুলে ধরলেন নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনের প্রতীক হিসেবে।

মোদী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন একটি ভিডিওর কথা, যা কয়েক দিন আগে তাঁর নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, ISRO-র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনন্য ড্রোন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন দেশের তরুণেরা। প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মঙ্গলগ্রহের মতো পরিবেশে’ ড্রোন ওড়ানো। এই চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পুনের একদল তরুণ বারবার ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা সাফল্য অর্জন করেন।

   

ভোট আবহে মুর্শিদাবাদে ফের উদ্ধার তাজা বোমা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ড্রোনটি বারবার পড়ে ভেঙে যাচ্ছিল, তবুও তারা হাল ছাড়েনি। বহু চেষ্টার পরে ড্রোনটি মঙ্গলগ্রহের মতো পরিবেশে সফলভাবে কিছুক্ষণ উড়তে সক্ষম হয়। এই দৃঢ় প্রত্যয়ই আজকের ভারতের শক্তি।” এই দৃশ্য তাঁর মনে করিয়ে দেয় ২০১৯ সালের সেই রাতকে, যখন চন্দ্রযান-২-এর বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে যায়।

সেই ব্যর্থতার মুহূর্তে বিজ্ঞানীরা যেমন ভেঙে পড়েছিলেন, তেমনই পরের দিনই শুরু করেন নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি যার পরিণাম ছিল চন্দ্রযান-৩-এর গর্বিত সাফল্য। দেশজুড়ে বৈজ্ঞানিক মানসিকতা এবং তরুণদের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকেই ভারতের এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি বলে মনে করেন মোদি।

মন কি বাত-এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতে নতুন মাইলস্টোনের কথাও বলেন। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় দেশের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট প্রস্তুতকারক সংস্থা Skyroot Aerospace-এর Infinity Campus। এখানে উদ্বোধন করা হয় সংস্থার প্রথম কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম রকেট Vikram-I।

মোদী বলেন, “স্কাইরুটের ইনফিনিটি ক্যাম্পাস ভারতের নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন এবং যুবশক্তির প্রতিফলন।” তাঁর মতে, আজ যখন দেশ একের পর এক মহাকাশ মিশনের পরিকল্পনা করছে, তখন বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের মহাকাশ শিল্পের বিস্তার ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এগুলিই হবে আসল চালিকাশক্তি।

মহাকাশের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা এবং বিমান চলাচল শিল্পেও দ্রুত গতির উন্নতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, হায়দ্রাবাদে উদ্বোধন হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম Leap Engine MRO facility—যা বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং পুনর্গঠন ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে LEAP ইঞ্জিনের জন্য বিশেষায়িত MRO ইউনিট, যা ব্যবহার করে Airbus A320neo এবং Boeing 737 Max-এর মতো বিমান।

মোদী বলেন, “এটি শুধু ভারতের বিমান শিল্পের জন্যই বড় পদক্ষেপ নয়, বরং আমাদের আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে INS Mahe, যা দেশের সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন শক্তি যোগ করেছে। প্রতিরক্ষা খাতে এই ধারাবাহিক উন্নতি চাই তা নৌবাহিনী হোক বা বিমান প্রযুক্তি সবই ভারতের আত্মবিশ্বাস এবং সক্ষমতার পরিচায়ক।

হায়দ্রাবাদের GMR Aerospace and Industrial Park–এর ৪৫,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি এই MRO সুবিধা প্রাথমিকভাবে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে। এটিই প্রথমবার যখন কোনও বৈশ্বিক ইঞ্জিন নির্মাতা সংস্থা ভারতে একটি পূর্ণাঙ্গ MRO কেন্দ্র স্থাপন করল। ফলে শুধু কর্মসংস্থানই বাড়বে না, ভারতের বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রের খরচও কমবে এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা দেশেই পাওয়া যাবে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular