
নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর (Russian oil)। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে। এই মাসে রাশিয়া থেকে আমদানি করা অশোধিত তেল ভারতের মোট ক্রুড আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকা থেকেও তেল কেনা বেড়েছে। ফলে রাশিয়া এবং আমেরিকা মিলিয়ে নভেম্বরে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক অংশ সরবরাহ করেছে।
এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক এনার্জি ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার এবং ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্রাথমিক হিসাব।নভেম্বরে ভারত মোট প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন তেল আমদানি করেছে, যার মধ্যে রাশিয়া থেকে এসেছে ১.৬৮ মিলিয়ন ব্যারেল যা অক্টোবরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি এবং মে মাসের পর সর্বোচ্চ। রাশিয়ান তেলের এই উত্থানের পিছনে রয়েছে ডিসকাউন্টের আকর্ষণ।
আগামী নির্বাচনে হিন্দু নেতার মনোনয়ন বাতিল করল নির্বাচন কমিশন
ইউরালস গ্রেডের তেল ব্রেন্টের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৪-৬ ডলার কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা ভারতীয় রিফাইনারিদের জন্য লাভজনক। রিলায়েন্স, রোজনেফটের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং নায়রা এনার্জির মতো বেসরকারি রিফাইনারির বাড়তি কেনা এই সংখ্যাকে আরও বাড়িয়েছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই সময়ে আমেরিকান তেল আমদানিও বেড়েছে।
নভেম্বরে ইউএস থেকে প্রায় ৫৫০,০০০ ব্যারেল প্রতিদিন তেল এসেছে যা অক্টোবরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) গ্রেডের হালকা তেল ভারতের জটিল রিফাইনারিগুলোর জন্য উপযুক্ত এবং ডিজেল উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে রাশিয়া (৩৫%) এবং আমেরিকা (প্রায় ১১-১২%) মিলিয়ে নভেম্বরে ভারতের তেল আমদানির প্রায় ৪৭ শতাংশ এসেছে এই দু’দেশ থেকে।
এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের অংশ কমেছে। সৌদি আরবের অংশ ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, ইরাকের ১৮ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮ শতাংশ। ওপেকের অংশ মোট আমদানির মাত্র ৪৫ শতাংশে নেমেছে যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখন তেল কেনায় ‘মাল্টি-সোর্সিং’ নীতি আরও জোরালোভাবে অনুসরণ করছে।
দাম কম পাওয়া এবং জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি কমানো দু’টোই লক্ষ্য।এই আমদানি বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে স্পষ্ট। নভেম্বরে তেল আমদানি বাবদ খরচ কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ, যা চলতি অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট কমাতে সাহায্য করছে। রুপির উপর চাপ কমেছে এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাত শক্তিশালী হয়েছে।
তবে পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, রাশিয়ান তেলের উচ্চ সালফার কনটেন্ট এবং লং-রুট শিপিংয়ের কারণে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাড়ছে।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। জি৭-এর প্রাইস ক্যাপ সত্ত্বেও রাশিয়ান তেলের রফতানি বাড়ছে এবং ভারত তার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। একই সঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে এনার্জি সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতের ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’-র উদাহরণ কোনো একটি ব্লকের উপর নির্ভর না করে নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।







