নয়াদিল্লি: চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে চিনের মধ্যস্থতার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যে সংঘর্ষবিরতি (Ceasefire) কার্যকর হয়েছিল, তাতে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। বরং দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।
চিনের ‘ট্রাম্প-সুলভ’ দাবি এবং ভারতের কড়া জবাব
মঙ্গলবার বেজিংয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংঘাত মেটাতে বেজিং ‘বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ’ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জানান, মায়ানমার, প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল এবং ইরান পরমাণু ইস্যুর পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতেও চিন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে।
চিনের এই দাবি সামনে আসতেই নয়াদিল্লির সরকারি সূত্র মারফত জানানো হয়েছে, “আমরা আগেও এই ধরনের দাবি অস্বীকার করেছি। ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের জায়গাই নেই। অতীতের মতো এবারও আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—দুই দেশের সামরিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছিল।”
ওয়াং ই-র বক্তব্যে কী ছিল? India rejects China mediation
চিনের বিদেশমন্ত্রী দাবি করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে আঞ্চলিক সংঘাত ও সীমান্ত বিরোধ সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চিন যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, তার মাধ্যমেই ভারত-পাক সংকট বা কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের মতো হটস্পটগুলিতে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হয়েছে। ওয়াং ই-র এই দাবিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের করা দাবির সঙ্গেই তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেক্ষাপট: মে মাসের সেই সংকট
গত এপ্রিল মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। এর ফলে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্ত কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। নয়াদিল্লির দাবি, উত্তেজনার চরম পর্যায়ে পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সরাসরি ফোনালাপের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখানে অন্য কোনও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কোনও অবকাশ ছিল না।
Bharat: India refutes Chinese Foreign Minister Wang Yi’s claims of mediating the 2025 India-Pakistan conflict. New Delhi clarifies the May 10 ceasefire followed direct DGMO talks after Operation Sindoor, strictly rejecting any third-party intervention.
