কলম্বোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘গার্ড অফ অনার’ (guard of honor) দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে এরকম ঐতিহাসিক সম্মান কোনো বিদেশী দেশনায়ক কে দেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে মোদীর শ্রীলঙ্কা আগমন সে দেশের নাগরিকরা একরকম আশীর্বাদ বলে মনে করছে। শ্রীলঙ্কায় বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এবং বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিরক্ষার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সারতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেই হাত মেলাতে চায় শ্রীলঙ্কা সরকার।
মুম্বই শিবিরে গোষ্ঠীকোন্দল? বাগযুদ্ধে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কোচ বনাম ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’
রাজীব গান্ধীর ঘটনা (guard of honor)
ঠিক এরকম ই একটি ঘটনার কথা মনে করানো দরকার যা সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৭ সালের ৩০ জুলাই শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী প্রেসিডেন্ট হাউসের সামনে ‘গার্ড অফ অনার’ (guard of honor) পরিদর্শন করছিলেন। এই সময় শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর একজন সেনা, বিজিথামুনি রোহানা ডি সিলভা, তার আনুষ্ঠানিক রাইফেল দিয়ে রাজীব গান্ধীর উপর আঘাত করেন। এই ঘটনা ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে ইতিহাসে লেখা আছে।
হামলার কারণ
রোহানা ভারতের শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ এবং লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (এলটিটিই)-কে সমর্থনের বিরোধী ছিলেন। তিনি শান্তি চুক্তিকে শ্রীলঙ্কার সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত মনে করতেন। তিনি পরে বলেন, “আমি দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমি জানতাম এর জন্য আমার প্রাণ যেতে পারে, কিন্তু আমি প্রস্তুত ছিলাম।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের একটি সংকটময় সময়ে ঘটে। শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইপিকেএফ) শ্রীলঙ্কায় মোতায়েন করা হয়। এটি অনেক শ্রীলঙ্কানদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। রোহানার হামলা এই ক্ষোভেরই প্রকাশ ছিল।
পরবর্তী ঘটনা
চার বছর পর, ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধী তামিলনাড়ুতে এলটিটিই-এর এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন। এটি ভারতের রাজনীতি ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। রোহানার হামলা যেন সেই মর্মান্তিক পরিণতির একটি পূর্বাভাস ছিল।
এই ঘটনা আজও ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আলোচনার বিষয়। এটি দেখায় কীভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জাতীয় ও ব্যক্তিগত স্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান সময়
সময় বদলেছে, আজ শ্রীলঙ্কা আবার এক সংকটের মুখে। গভীর অর্থনৈতিক সংকট এবং দেশের শিল্প, প্রতিরক্ষার পরিকাঠামোও এখন যথেষ্ট সংকটে। এই সংকটের মুখে বর্তমান ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই শ্রীলঙ্কা সফর আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছে সে দেশের সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনে আজ দরকার ভারতের সাহায্য।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় বসেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০টি উচ্চাভিলাষী ফলাফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি এবং জ্বালানি খাতে গভীরতর সহযোগিতার কাঠামো।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলে, এটি ভারত-শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সম্পর্কে একটি বড় অগ্রগতির সংকেত দেবে। এটি প্রায় ৩৫ বছর আগে শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইপিকেএফ) প্রত্যাহারের তিক্ত অধ্যায়কে পিছনে ফেলে নতুন সম্পর্কের সূচনা করবে।