ফের সীমান্ত যুদ্ধে ভারতের মুখোমুখি হলে কতক্ষন টিকবে পাকিস্তান?

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যদি আবার যুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠে, (India Pakistan)তাহলে পাকিস্তান কতক্ষণ টিকে থাকবে? এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে বারবার উঠে আসে, বিশেষ করে…

india-pakistan-military-strength-comparison-2026

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যদি আবার যুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠে, (India Pakistan)তাহলে পাকিস্তান কতক্ষণ টিকে থাকবে? এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে বারবার উঠে আসে, বিশেষ করে দুই দেশের সামরিক শক্তির তুলনামূলক ছবি দেখলে।

Advertisements

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, যখন বিশ্বের সামরিক শক্তির মানচিত্র পরিবর্তনশীল, তখন গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার (জিএফপি) রিপোর্ট দেখাচ্ছে যে ভারত বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী সামরিক দেশ, যেখানে পাকিস্তান দ্বাদশ স্থানে।

   

আগামী মাসে লঞ্চ হবে Google Pixel 10a, আইফোনকে দেবে কড়া টক্কর

এই তুলনা শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।প্রথমে বিমানশক্তির দিকে নজর দিলে, ভারতের মোট বিমান যানের সংখ্যা ২,২২৯, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ৫১৩। পাকিস্তানের মোট বিমান ১,৩৯৯, যুদ্ধবিমান ৩২৮। হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে ভারতের ৮৯৯টির বিপরীতে পাকিস্তানের ৩৭৩টি। অ্যাটাক হেলিকপ্টার আছে ভারত ৮০টি, পাকিস্তান ৫৭টি।

এই বৈষম্য যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে, যেমন সীমান্তে এয়ার সুপিরিয়রিটি অর্জনে ভারতকে সুবিধা দেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান চীনের সাহায্যে তৈরি হলেও, ভারতের রাফেল এবং সু-৩০এমকেআই-এর মতো অত্যাধুনিক বিমানের সামনে টিকে থাকা কঠিন।মিসাইল প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্নি সিরিজ, ব্রহ্মোস এবং প্রিথ্বী মিসাইলের বিপরীতে পাকিস্তানের হাতফ এবং বাবুর মতো মিসাইল রয়েছে।

জিএফপি রিপোর্টে স্পেসিফিক সংখ্যা না থাকলেও, ওয়াইওএন নিউজের তুলনায় ভারতের মিসাইল স্টক ৩,৫০০-এর বেশি, পাকিস্তানের ১,২০০-এর মতো। ড্রোন বা ইউএভিতে ভারতের ২,৫০০-এর বেশি, পাকিস্তানের ১,৫০০। এই অস্ত্রগুলো আধুনিক যুদ্ধে সার্ভিল্যান্স এবং স্ট্রাইকে গুরুত্বপূর্ণ।স্থলভিত্তিক শক্তিতে ভারতের ট্যাঙ্ক ৪,২০১, পাকিস্তানের ২,৬২৭।

ভারতের টি-৯০ ভীষ্ম এবং অর্জুন ট্যাঙ্ক অত্যাধুনিক, যেখানে পাকিস্তানের আল-খালিদ চীনা প্রযুক্তির। আরমার্ড ভেহিকলসে ভারত ১৪৮,৫৯৪, পাকিস্তান ১৭,৫১৬। সেল্ফ-প্রোপেল্ড আর্টিলারিতে পাকিস্তান ৬৬২টি, ভারত ১০০টি এখানে পাকিস্তানের সুবিধা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভারতের ল্যান্ড পাওয়ার শক্তিশালী।

জলপথে ভারতের সাবমেরিন ১৮, পাকিস্তানের ৮। ভারতের দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, পাকিস্তানের কোনোটি নেই। নৌবাহিনীর মোট ফ্লিট ২৯৩ বনাম ১২১। এই বৈষম্য পাকিস্তানের সমুদ্রপথে সাপ্লাই লাইনকে দুর্বল করে তুলবে।নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডসে দুই দেশেরই প্রায় সমান ভারত ১৮০, পাকিস্তান ১৭০।

কিন্তু ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াড (ল্যান্ড, এয়ার, সি) সম্পূর্ণ। পাকিস্তানেরও উন্নয়ন চলছে। যুদ্ধ যদি নিউক্লিয়ার পর্যায়ে যায়, তাহলে উভয় দেশের জন্য ধ্বংসাত্মক। সিপ্রি রিপোর্ট বলছে, এমন যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারে এবং গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ ঘটতে পারে।

সেনাবাহিনীর দিকে তাকালে ভারতের অ্যাকটিভ পার্সোনেল ১.৪৫ মিলিয়ন, পাকিস্তান ৬৫৪,০০০। রিজার্ভ ১.১৫ মিলিয়ন বনাম ৫৫০,০০০। ডিফেন্স বাজেটে ভারত ৭৫ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তান ৭.৬৪ বিলিয়ন।

এই অর্থনৈতিক বৈষম্য যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করলে পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব করে তুলবে।হাইপোথেটিকাল যুদ্ধে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান প্রথমে সীমান্তে টিকে থাকতে পারে, কিন্তু ভারতের এয়ার এবং ল্যান্ড সুপিরিয়রিটি কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ভেঙে ফেলতে পারে। ২০১৯-এর বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক বা ২০২৫-এর অপারেশন সিঁদুর দেখিয়েছে, ভারতের ক্ষমতা।

Advertisements