২০২৬-এ ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত? মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

২০২৫ সালের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী বছর নিয়ে উদ্বেগের খবর শোনাল আমেরিকার একটি প্রথম সারির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ (CFR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে…

২০২৫ সালের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী বছর নিয়ে উদ্বেগের খবর শোনাল আমেরিকার একটি প্রথম সারির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ (CFR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাত (Armed Conflict) বেঁধে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর নেপথ্যে মূলত সীমান্তে বাড়তে থাকা ‘জঙ্গি তৎপরতা’কে দায়ী করেছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements

মার্কিন বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ও আশঙ্কা

CFR-এর ‘কনফ্লিক্টস টু ওয়াচ ইন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত-পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য সংঘাতের সম্ভাবনা ‘মাঝারি’ (Moderate Likelihood)। আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের ওপর এর প্রভাবও হবে মাঝারি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

   

শুধুমাত্র ভারত নয়, পাকিস্তান তার অন্য প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গেও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি হামলার কারণে আফগান ও পাক বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো।

২০২৫-এর সেই উত্তাল মে মাস এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ India Pakistan conflict

স্মর্তব্য যে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান এক তীব্র সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল। গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে একটি নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ হারান। এর পাল্টা জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’।

অপারেশন সিন্দুর-এর সাফল্য: ভারত তিনটি প্রধান লক্ষ্য-সামরিক, রাজনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক—নিয়ে এই অভিযান চালায়। নয়াদিল্লির দাবি অনুযায়ী-

পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত জঙ্গি পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউসুফ আজহার, আব্দুল মালিক রউফ এবং মুদাসির আহমেদের মতো ১০০-র বেশি উচ্চপদস্থ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে।

ভারতের কড়া পদক্ষেপে দিশেহারা হয়ে ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও (DGMO) ভারতকে ফোন করেন এবং দু’পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।

মধ্যস্থতা বিতর্ক: ট্রাম্প বনাম নয়াদিল্লি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপেই ভারত-পাক উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি চীনও এই ঘটনায় মধ্যস্থতার কৃতিত্ব দাবি করেছে। তবে ভারত সরকার শুরু থেকেই এই সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়ে এসেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সমস্যা সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং মে মাসের সংঘর্ষ বিরতিও সরাসরি দুই দেশের সামরিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে, এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই।

শঙ্কার মেঘ ২০২৬-এ?

CFR-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা যদি বর্তমান হারে বাড়তে থাকে, তবে ভারত আবারও কড়া সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। যার ফলে ২০২৬ সালেও দক্ষিণ এশিয়া একটি বড়সড় যুদ্ধের সাক্ষী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements