বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হত্যায় কড়া অবস্থান ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের

নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে আসা একটি সাম্প্রতিক বিবৃতিতে (India MEA on minority violence)ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অব্যাহত হিংসা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের…

india-mea-strong-stand-minority-violence-bangladesh

নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে আসা একটি সাম্প্রতিক বিবৃতিতে (India MEA on minority violence)ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অব্যাহত হিংসা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “বাংলাদেশে চরমপন্থীদের হাতে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধসহ সংখ্যালঘুদের উপর অবিরাম শত্রুতা একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।”

Advertisements

এই বিবৃতি এসেছে ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার পর, যাকে জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয়। ভারত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছে যে, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে স্বাধীন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনা প্রায় ২,৯০০টি নথিভুক্ত হয়েছে।

   

জয়পুরে অবৈধ মসজিদকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য! বন্ধ ইন্টারনেট

এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, জমি দখল এবং অন্যান্য নির্যাতন। জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেছেন, “এই ঘটনাগুলোকে মিডিয়ার অতিরঞ্জন বা রাজনৈতিক হিংসা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” সম্প্রতি রাজবাড়ি জেলায় আরেক হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডলকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে।

মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং জমি দখলের ঘটনা বেড়েছে। ভারত বারবার এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

এই হিংসার প্রতিবাদে ভারতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা প্রতিবাদ করেন, যেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়। কলকাতা, জম্মু এবং অন্যান্য শহরেও অনুরূপ বিক্ষোভ দেখা গেছে। প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে ইউনুস সরকারের সমালোচনা করেছেন।

এই প্রতিবাদের জেরে বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে নিজেদের মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভারত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল। ভারতের এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

একদিকে ভারত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু ঘটনাকে অপরাধমূলক বলে বর্ণনা করে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, চরমপন্থীদের উত্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা না কমলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। ভারত বারবার জোর দিয়েছে যে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আঞ্চলিক শান্তির জন্য অপরিহার্য।

Advertisements