কেন আচমকা প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলেন নেতানিয়াহু

india-israel-pm-call-netanyahu-modi-strategic-partnership

নয়া দিল্লি, ১০ ডিসেম্বর: আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাতায় বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎই নতুন অধ্যায় (India-Israel strategic partnership call)যোগ করল দিল্লি–জেরুসালেম লাইনে হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ। আচমকাই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দুই দেশের দীর্ঘদিনের অভিন্ন কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই কথোপকথন শুধু সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে তা এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে পরিণত হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দুই নেতা প্রথমেই সন্তোষ প্রকাশ করেন ভারত–ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে। বাণিজ্য, কৃষি প্রযুক্তি, সাইবার সুরক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীরা একমত হন যে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

   

SIR শেষের পথে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় কত ভুয়ো ভোটার মোদী রাজ্যে ?

ফোনালাপের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ। দুই নেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, সন্ত্রাসবাদ কোনো রূপেই মানবসভ্যতার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। একবিংশ শতাব্দীতে সন্ত্রাসবাদ শুধু সীমান্ত নয়, মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। মোদী ও নেতানিয়াহু দু’জনেই ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা মনে করেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একযোগে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও উঠে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে গাজা উপত্যকার সাম্প্রতিক মানবিক সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দু’জনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুনরায় জানান, ভারত শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তিনি ‘গাজা পিস প্ল্যান’ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। মোদী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেক পক্ষের সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি জরুরি।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ফোনালাপ এমন সময়ে হলো যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে, বৈশ্বিক শক্তিগুলির অবস্থান জটিল হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক মিত্রতা নতুন রূপ নিচ্ছে। এমন সময়ে ভারত ও ইজরায়েলের দু’প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ফোনালাপ দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতাকে ভবিষ্যতে আরও সংহত করবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই নেতা সম্মত হয়েছেন ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে। এই নিয়মিত সংলাপ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও বিশ্ব কূটনীতিকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে ভারত শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির অংশগ্রহণকারী নয়, বরং একটি বৈশ্বিক শক্তি—যার মতামত ও পদক্ষেপ এখন বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে। মোদী–নেতানিয়াহুর ফোনালাপ সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন