ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে ড্রোন ক্যামেরায় নতুন প্রযুক্তি ভারতের

  India signs deal with Israel for new drone camera technology     ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা আজ, বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলের (israel) একটি প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে…

israel technology adopted by india

 

   

India signs deal with Israel for new drone camera technology

Advertisements

ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা আজ, বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলের (israel) একটি প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতে উন্নত ড্রোন ক্যামেরা প্রযুক্তি আনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ভারতের প্যারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস এবং ইসরায়েলের মাইক্রোকন ভিশন, যিনি কনট্রপ এবং রাফায়েল গ্রুপের অংশ, এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সহযোগিতা প্যারাস ডিফেন্সকে ভারতে উন্নত ড্রোন ক্যামেরা প্রযুক্তির একচেটিয়া সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, তাও “অনেক কম খরচে”।

চুক্তির বিশদ বিবরণ

প্যারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস, যিনি ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে একটি অগ্রণী সংস্থা, এই MoU-এর মাধ্যমে মাইক্রোকন ভিশনের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেছে। মাইক্রোকন ভিশন ড্রোন এবং মানববিহীন আকাশযানের জন্য ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স এবং রিকনেসান্স (ISR) পেলোড এবং ইলেকট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রা-রেড (EO/IR) সিকার তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। এই চুক্তি অনুসারে, প্যারাস ডিফেন্স ভারতে মাইক্রোকনের একমাত্র অংশীদার হবে এবং মাইক্রোকন প্যারাসের জন্য উন্নত ড্রোন ক্যামেরার একচেটিয়া সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে।

এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হল ভারতের প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক খাতে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির প্রাপ্যতা বাড়ানো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্যারাস ডিফেন্স এই প্রযুক্তিতে উচ্চমাত্রায় দেশীয় উপাদান ব্যবহার করবে, যা খরচ ৫০-৬০% কমিয়ে দেবে। বর্তমানে এই ধরনের ড্রোন ক্যামেরার আমদানি মূল্য প্রতি ইউনিট ২০ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে।” এই কম খরচে উৎপাদন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এই প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করবে।

২৬ হাজার চাকরি বাতিল! তড়িঘড়ি শিক্ষামন্ত্রীকে নবান্নে ডেকে পাঠালেন মমতা

প্যারাস ডিফেন্সের প্রতিক্রিয়া

প্যারাস ডিফেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুঞ্জল শরদ শাহ বলেন, “এই সহযোগিতা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা ভারতের কৌশলগত লক্ষ্যকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মাইক্রোকনের সঙ্গে এই যুগান্তকারী উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে গর্বিত।” তিনি আরও জানান, এই MoU ভারতের ISR পেলোড বাজারে উভয় সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক বিশ্লেষণ, উচ্চ-রেজোলিউশন ইমেজিং এবং থার্মাল ভিশনের মতো উন্নত বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা নজরদারি ক্ষমতাকে আরও উন্নত করবে।

মাইক্রোকনের দৃষ্টিভঙ্গি

মাইক্রোকন ভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চেন আলমোগ বলেন, “আমরা অত্যাধুনিক ISR পেলোড সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। প্যারাস ডিফেন্সের সঙ্গে এই সহযোগিতা আমাদের ভারতে প্রসারের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” তিনি আরও বলেন, “মাইক্রোকনের বিশ্বব্যাপী দক্ষতা এবং প্যারাসের স্থানীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে আমরা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করব এবং ভারতের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে শক্তিশালী করব।”

ভারতের ড্রোন বাজারে প্রভাব

ভারতের ড্রোন বাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির পর্যায়ে রয়েছে। ড্রোন ক্যামেরা, যা বর্তমানে আমদানি করা হয়, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশগুলির মধ্যে একটি। এই চুক্তি এই ব্যয়ের ব্যবধান পূরণ করবে এবং ভারতকে উন্নত প্রযুক্তির একটি বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতাকে আরও জোরদার করবে।

প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য

এই সহযোগিতার আওতায় দুটি মডেলের ড্রোন ক্যামেরা ভারতে উৎপাদিত হবে। এই ক্যামেরাগুলিতে ISR পেলোড এবং EO/IR সিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দিন-রাতের নজরদারি, উচ্চ-রেজোলিউশন চিত্র ধারণ এবং তাপীয় দৃষ্টি সক্ষমতা প্রদান করবে। এই প্রযুক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষেত্রে যেমন কৃষি, অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা যাবে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব

এই চুক্তি ভারত-ইসরায়েল (israel) সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার একটি প্রমাণ। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই সহযোগিতা শুধুমাত্র প্রযুক্তি হস্তান্তরই নয়, বরং ভারতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও সম্ভাবনা তৈরি করবে। প্যারাস ডিফেন্সের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং রপ্তানির সম্ভাবনাও বাড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (israel)

প্যারাস ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের পর ভারতকে একটি বিশ্বব্যাপী ড্রোন প্রযুক্তি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। মুঞ্জল শাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ভারতের চাহিদা পূরণ নয়, বরং বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করা।” মাইক্রোকনের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।

এই MoU ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কম খরচে উন্নত ড্রোন ক্যামেরা প্রযুক্তি ভারতের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই সহযোগিতা কীভাবে ভারতের প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক খাতে প্রভাব ফেলে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।