ইউনুসকে কোনঠাসা করতে নয়া চাল মোদীর

নয়াদিল্লি: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে (Muhammad Yunus)ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য যখন টালমাটাল, ঠিক সেই সময় ভারতের কূটনৈতিক চাল ঘিরে…

india-isolate-muhammad-yunus

নয়াদিল্লি: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে (Muhammad Yunus)ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য যখন টালমাটাল, ঠিক সেই সময় ভারতের কূটনৈতিক চাল ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি চিঠি, সেই চিঠি নিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর সব মিলিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত, বাংলাদেশের ক্ষমতার সমীকরণে মুহাম্মদ ইউনুসকে ‘আইসোলেট’ করার পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি।

Advertisements

ঘটনার সূচনা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। প্রথা অনুযায়ী শোকবার্তা রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারের মাধ্যমে পাঠানো হলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিঠি পাঠান। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

   

পাক সেনা ক্যাম্পে রক্তগঙ্গা বইয়ে নতুন বছরের উপহার দিল TTP

এর পরই দিল্লির বার্তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে গিয়ে শুধু সরকারি স্তরের বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও পৃথকভাবে আলোচনা করেন। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা, নির্বাচন, এবং চরমপন্থার উত্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নয়াদিল্লির মূল উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনুস। ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইউনুস ধীরে ধীরে জামাত-ই-ইসলামি বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন। এই রাজনৈতিক সমীকরণ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ একটি আদর্শগতভাবে ‘বেঙ্গলি পাকিস্তান’-এর দিকে এগোতে পারে যা ভারতের উত্তর-পূর্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ করে জামাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে মৌলবাদী শক্তিগুলির পুনরুত্থান, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ার আশঙ্কা করছে ভারত। অতীতে পাকিস্তান ও আইএসআইয়ের মদতে বাংলাদেশে যেভাবে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তার লাভ করেছিল, সেই অভিজ্ঞতা এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের স্মৃতিতে তাজা।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিল্লি একদিকে যেমন বিকল্প শক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তেমনই ইউনুসকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্তরে কোণঠাসা করার কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি ‘হার্ড পাওয়ার’ নয়, বরং সুক্ষ্ম ‘পলিটিক্যাল আইসোলেশন’ স্ট্র্যাটেজি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়ছে। বিএনপি শিবিরে ভারতের এই সক্রিয়তা নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে, অন্যদিকে ইউনুস ঘনিষ্ঠ শিবিরে অস্বস্তি বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আগামী দিনে নির্বাচন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসে ভারতের ভূমিকা আরও প্রকাশ্য হতে পারে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন আর শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয় বরং ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আর সেই সমীকরণে মুহাম্মদ ইউনুস বনাম বিএনপি এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের দিক নির্ধারণ করবে।

Advertisements