ভারত-ফ্রান্সের মেগা রাফাল চুক্তিতে ঐতিহাসিক মোড়

india-france-rafale-mega-defence-deal

ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) স্কোয়াড্রনের ঘাটতি পূরণ (Rafale)করতে একটি মেগা ডিফেন্স ডিলের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে ভারত ও ফ্রান্স। সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই চুক্তিতে ৯০টি রাফাল F4 ভ্যারিয়েন্টের ফার্ম অর্ডার এবং ২৪টি পরবর্তী প্রজন্মের F5 ভ্যারিয়েন্টের অপশন রয়েছে। এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিফেন্স প্রকিউরমেন্টগুলির একটি হতে চলেছে, যার মূল্য লক্ষাধিক কোটি টাকার কাছাকাছি।

   

“ভাগ্যে যা লেখা আছে…!” বিশ্বকাপের আগে মনের কথা জানালেন শুভমন

এই ডিল ভারতের ‘Make in India’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গে পুরোপুরি সংযুক্ত। সূত্র জানাচ্ছে, বিমানের উৎপাদনের মূল্যের ৬০% পর্যন্ত ভারতে হবে। দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানিগুলির যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে হায়দরাবাদে M88 ইঞ্জিনের প্রোডাকশন ও MRO (মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল) ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা ২০২৬-এর শেষের দিকে চালু হবে।

এতে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ৩০টির মতো স্কোয়াড্রন রয়েছে, যা অনুমোদিত ৪২টির থেকে অনেক কম। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে দুই-ফ্রন্ট যুদ্ধের হুমকির মুখে আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটারের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। ২০১৬ সালে ৩৬টি রাফালের চুক্তির পর ২০২৫ সালে নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল-এম (ক্যারিয়ার-ভিত্তিক) কেনা হয়েছে।

এখন MRFA (মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট) প্রোগ্রামের অধীনে এই ১১৪টি যুদ্ধবিমানের প্রস্তাব IAF-এর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। F4 ভ্যারিয়েন্টে উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও অস্ত্রের ক্ষমতা রয়েছে, আর F5 হবে আরও অ্যাডভান্সড, যা ২০৩০-এর পরের দশকে ভারতের ফ্লিটকে শক্তিশালী করবে।এই চুক্তি ফাইনালাইজ হতে পারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র ভারত সফরের সময়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নয়াদিল্লিতে AI Impact Summit-এর জন্য ম্যাক্রোঁ আসছেন।

এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ডিফেন্স, AI ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ নিয়ে আলোচনা হবে। রাফাল ডিল এই সফরের অন্যতম হাইলাইট হতে চলেছে। ফ্রান্সের আর্মড ফোর্সেস মিনিস্ট্রির সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ভারতের এই প্রস্তাবের কথা স্বীকার করা হয়েছে।

এই ডিল শুধু বিমানবাহিনীর শক্তি বাড়াবে না, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বমানের করে তুলবে। দাসো ও ভারতীয় কোম্পানিগুলির (যেমন টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস) যৌথ উদ্যোগে ফিউজেলেজ, ইঞ্জিন ও অন্যান্য অংশ ভারতে তৈরি হবে। এতে প্রযুক্তি ট্রান্সফার, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও লং-টার্ম সেল্ফ-রিলায়েন্স নিশ্চিত হবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন