
নয়াদিল্লি: বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চিত পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, (India exports)এবং মার্কিন-চিন বাণিজ্য টানাপোড়েনের মধ্যেও ইউরোপের একাধিক দেশে রফতানিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাল ভারত। এপ্রিল থেকে নভেম্বর ২০২৫—এই আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে ভারতের রফতানি দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধি ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলছে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
@MeghUpdates–এর পোস্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল-নভেম্বর সময়কালে স্পেনে ভারতের রফতানি বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। আর্থিক মূল্যে যা দাঁড়িয়েছে ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি জার্মানিতেও ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৩ শতাংশ, যার মোট মূল্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি বেলজিয়ামে রফতানি পৌঁছেছে ৪.৪ বিলিয়ন ডলারে এবং পোল্যান্ডে তা বেড়ে হয়েছে ১.৮২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বৃদ্ধি হার ৭.৬ শতাংশ।
ডাক বিভাগে ২৫,০০০ এরও বেশি GDS পদে নিয়োগ! দশম উত্তীর্ণরা আবেদন করুন
অর্থনৈতিক মহলের মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভারতের উৎপাদন খাতের শক্তিশালী হওয়া। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল ও রেডিমেড গার্মেন্টস, রাসায়নিক দ্রব্য এবং আইটি পরিষেবার চাহিদা ইউরোপে দ্রুত বাড়ছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলি সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেন) বৈচিত্র্যকরণের দিকে ঝুঁকেছে, যার ফলে চিনের বিকল্প হিসেবে ভারতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইকনমিক টাইমস-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইইউ-তে ভারতের মোট রফতানি বছরে বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, ইউরোপীয় বাজারে ভারতের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধু ঐতিহ্যবাহী অংশীদার দেশ যেমন ব্রিটেন ও আমেরিকার উপর নির্ভর না করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে নতুন রফতানি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে ভারত।
এই প্রবণতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে চলা আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকার পর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই আলোচনা আবার গতি পেয়েছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি, তবুও উভয় পক্ষের মধ্যে শুল্ক হ্রাস, বাজারে প্রবেশাধিকারের সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা বিনিময় হয়েছে। এর ফলেই ইউরোপীয় দেশগুলিতে ভারতীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব বাণিজ্যে যখন সুরক্ষাবাদ বাড়ছে, তখন ভারতের এই রফতানি সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত হলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হবে, পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দিনে ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলিতেও ভারতের রফতানি আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউরোপের দেশগুলিতে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি শুধু পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য মানচিত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের স্পষ্ট প্রমাণ। যদি এই ধারা বজায় থাকে এবং নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক বছরে ভারত ইউরোপীয় বাজারে আরও বড় ভূমিকা নিতে সক্ষম হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।










