প্রজাতন্ত্র দিবসে চমক দিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগাবে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে এবার (India EU)বিশ্বকে তাক লাগানোর মতো একটা বড় ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ২৭ জানুয়ারি,…

india-eu-leaders-republic-day-2026-summit

নয়াদিল্লি: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে এবার (India EU)বিশ্বকে তাক লাগানোর মতো একটা বড় ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬-এ নয়াদিল্লিতে ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন হবে।

Advertisements

আর তার আগে, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেইয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কোস্তা মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

   

স্বপ্ন নগরীতে পদ্ম ফুটতেই শেষ ২৮ বছরের পরিবারতন্ত্র

এটা প্রথমবার যখন ইইউ-এর শীর্ষ দুই নেতা একসঙ্গে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে তারা ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসবেন।এই ঘোষণা ভারত-ইইউ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। গত কয়েক বছরে দুই পক্ষের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে মজবুত হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইইউ কমিশনারদের ভারত সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলা হয়েছিল।

এখন এই সফরের মাধ্যমে ভারত-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে। ২০০৪ সাল থেকে চলা এই অংশীদারিত্ব এখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা এবং সাপ্লাই চেইনের মতো ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসে এই দুই নেতার উপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, এটা একটা শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা ভারত ইইউ-কে একটা একক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ২৭ জানুয়ারির ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন। ২০২০ সালের পর এই প্রথম মুখোমুখি সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং দুই ইইউ নেতা এতে সহ-সভাপতিত্ব করবেন। সম্মেলনে দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হবে, যা দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটা ‘খুব কাছাকাছি’ এসে গেছে। এই চুক্তি দুই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির মধ্যে ট্যারিফ কমিয়ে বাণিজ্য বাড়াবে।

ভারতের টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি-র মতো খাতে রফতানি বাড়বে, আর ইইউ চীনের বিকল্প হিসেবে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং-এর উপর নির্ভর করতে পারবে। এছাড়া কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) নিয়ে ভারতের উদ্বেগ কমানো, গ্রিন টেকনোলজি ট্রান্সফার এবং ইভি, হাইড্রোজেনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা হবে।প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে কার্তব্য পথে এই দুই নেতা প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে থাকবেন।

থিম ‘বন্দে মাতরম’ যা ভারতের সামরিক শক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা প্রদর্শন করবে। এই অতিথি নির্বাচন ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার দেখায় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা, যখন বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তন আসছে। অতীতে ফ্রান্স, আমেরিকা, রাশিয়ার নেতাদের মতো এবার ইইউ-এর যৌথ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ করে মোদী সরকার বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে যে ভারত একটা গ্লোবাল পাওয়ার হিসেবে উঠে আসছে।

Advertisements