ভারতের অর্থনীতিতে একটা বড় মাইলস্টোন! ২০২৫ সালে (India)দেশের ইলেকট্রনিক্স রফতানি প্রথমবারের মতো ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই খবর জানিয়ে বলেছেন, এই বৃদ্ধি কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে এবং বিদেশি মুদ্রা আয় বাড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় (প্রায় ৩.৩ লক্ষ কোটি টাকা) এটা একটা লক্ষণীয় উন্নতি, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) স্কিমের সাফল্যের প্রমাণ।
এই রেকর্ডের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে অ্যাপলের আইফোন। ২০২৫-এ ভারত থেকে আইফোন রফতানি ২.০৩ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, যা ২০২৪-এর ১.১ লক্ষ কোটি টাকার প্রায় দ্বিগুণ! এটা ২০২১ সালে ভারতে আইফোন উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় লাফ। অ্যাপলের তিনটি টাটা গ্রুপের প্ল্যান্ট এবং দুটি ফক্সকনের প্ল্যান্টের মাধ্যমে এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। স্মার্টফোন রফতানি মোট ৩০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা) ছুঁয়েছে, যার মধ্যে আইফোনের অবদান প্রায় ৭৫ শতাংশ।
মহাকাল শিলান্যাসে গিয়ে এ কি করলেন মমতা! সরব বিজেপি
এতে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদক হয়ে উঠেছে, যেখানে দেশীয় বাজারের ৯৯ শতাংশ ফোন এখন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’।ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে এই উত্থানের পিছনে সরকারের নীতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ। পিএলআই স্কিমের মাধ্যমে অ্যাপল, স্যামসাং, মটোরোলার মতো কোম্পানি ভারতে উৎপাদন বাড়িয়েছে। ফলে সেক্টরে ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মোবাইল ফোন উৎপাদন ২০২৪-২৫-এ ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, এবং ২০২৫-এ প্রায় ৩০ কোটি ইউনিট উৎপাদন হয়েছে যার এক-চতুর্থাংশ রফতানি হয়েছে। উচ্চমানের (হাই এএসপি) ফোন যেমন আইফোন আমেরিকা, ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে, যা রফতানির মূল্য বাড়িয়েছে।
আরও বড় খবর ২০২৬ সালে চারটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট কমার্শিয়াল প্রোডাকশনে আসবে। মাইক্রন, সিজি পাওয়ার, কেইনেস টেকনোলজি এবং টাটা ইলেকট্রনিক্সের এই প্ল্যান্টগুলো চিপ উৎপাদন শুরু করবে।
টাটার অসমের প্ল্যান্ট মিড-২০২৬-এ পাইলট প্রোডাকশন শুরু করে বছরের শেষে ফুল স্কেলে যাবে। সরকার ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদন করেছে, মোট বিনিয়োগ ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এই বৃদ্ধি ভারতকে চীনের বিকল্প হিসেবে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে মজবুত করছে। ২০১৪-১৫-এ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ছিল ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা, রফতানি মাত্র ৩৮ হাজার কোটি এখন উৎপাদন ১১.৩ লক্ষ কোটি এবং রফতানি ৪ লক্ষ কোটি ছাড়িয়েছে। এটা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেমিকন্ডাক্টর ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি, ডিফেন্স, অটোমোবাইল, হেলথকেয়ার কিছুই চলে না।


