
নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) আজ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভারতীয় আকাশসীমায় বারবার ড্রোন লঙ্ঘনের ঘটনায় কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এ ধরনের আর কোনো উস্কানি সহ্য করা হবে না যেকোনো পরবর্তী প্ররোচনার জবাবে দৃঢ় ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কোনো অনুরোধ বা কাকুতি মানা হবে না।
আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী নিজে এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ডিজিএমও-স্তরের আলোচনা হয়েছে এবং গত সপ্তাহে লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি)-এর কাছে পাকিস্তান থেকে আসা ড্রোনের ঘটনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জেনারেল দ্বিবেদী জানান, পাকিস্তানকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে এই ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশ অগ্রহণযোগ্য এবং এগুলোকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ইউনুস জমানায় সমাজের সঙ্গে রাজনীতিতেও কোনঠাসা মহিলারা
তিনি আরও যোগ করেন যে ভারতের সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হবে না যদি পাকিস্তান চেষ্টা করে, তাহলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।এই সতর্কবার্তা আসার পিছনে রয়েছে গত ১১ জানুয়ারি রাতে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা, রাজৌরি, পুঞ্চ ও নৌশেরা-রাজৌরি সেক্টরে একাধিক সন্দেহজনক পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যাওয়ার ঘটনা। সেনা সূত্রের খবর, কমপক্ষে পাঁচটি ড্রোন ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ঘুরে বেড়ায় এবং পরে পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়।
কয়েকটি ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনা মাঝারি ও হালকা মেশিনগান থেকে গুলি চালিয়ে সেগুলোকে তাড়িয়ে দেয়। এর আগে ১০ জানুয়ারি সাম্বার পালোড়া গ্রামে একটি পাকিস্তানি ড্রোন থেকে অস্ত্রের চালান ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি ও একটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাগুলো ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশের নতুন হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিজিএমও-স্তরের এই হটলাইন যোগাযোগ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। সেনাপ্রধানের কথায়, পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ না হলে ভারত দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন যে ২০২৫ সালে অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি সংবেদনশীল কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় জঙ্গিদের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে, নিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং পাকিস্তানি মদতপুষ্ট ক্যাম্পগুলোর বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চলছে।










