নয়াদিল্লি: ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ২০২৫-এর ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে কড়া জবাব দেওয়ার পর, এবার প্রতিরক্ষা বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে মোদী সরকার। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ যে বাজেট পেশ করবেন, তাতে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৭ লক্ষ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। সামরিক আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
‘ডবল ডিজিট’ বৃদ্ধি ও মূলধনী ব্যয়ের রেকর্ড
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেতে পারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি। সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘ক্যাপিটাল বাজেট’ বা মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটি ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই অর্থ মূলত ব্যয় হবে তিন বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, নজরদারি সরঞ্জাম এবং যুদ্ধবিমান ক্রয়ে।
বায়ুসেনার ডানা শক্ত করতে রাফাল ও আধুনিক রাডার
বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধিতে এই বাজেটে বিশেষ ফোকাস থাকছে।
রাফাল ডিল: ১১৪টি রাফাল ফাইটার জেটের মেগা চুক্তি (প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউরো) চূড়ান্ত হওয়ার পথে। ২০২৭-এর মার্চের মধ্যেই এই চুক্তির জট কাটতে পারে।
আকাশে নজরদারি: ইজরায়েল ও আমেরিকার প্রযুক্তিতে ‘এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলার’ এবং ব্রাজিলের সহযোগিতায় তৈরি ‘অ্যাওয়াকস’ (AWACS) রাডার কেনা হবে। এটি ভারতীয় বায়ুসেনাকে মাঝ আকাশেই কয়েক গুণ শক্তিশালী করে তুলবে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে ইঞ্জিন বিপ্লব: সাফরান-ডিআরডিও জোট
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় নতুন দিশা দেখাতে ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি সংস্থা সাফরান এবং ভারতের ডিআরডিও যৌথভাবে যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী ইঞ্জিন তৈরি করবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার লক্ষ্যে ভারত আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
গত বছর প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। অপারেশন সিন্দুর-এর সাফল্যের পর ভারতের সামরিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবারের ৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
