
নয়াদিল্লি, ১২ ডিসেম্বর: হিমালয়ের উঁচু চূড়ায় ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর ভারত চীনা পরিদর্শকদের প্রায় সব ভিজা বন্ধ করে দিয়েছিল (India China trade relation)। সেই নিষেধাজ্ঞা যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে। কিন্তু আজ, পাঁচ বছর পর, ভারত সেই দেয়াল ভেঙে ফেলার পথে এগোচ্ছে।
রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট অনুসারে, চীনা পেশাদারদের ব্যবসায়িক ভিজা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে, যাতে মঞ্জুরি সময় এক মাসের নিচে নেমে এসেছে। এটি শুধু কাগজের খেলা নয়, বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন হারানোর ক্ষতি পূরণের একটা বাস্তব পদক্ষেপ।২০২০ সালের জুন মাসে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর গালওয়ানে চীনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সৈন্যদের হাতাহাতি লড়াইয়ে ২০ জন ভারতীয় সিপাহি শহীদ হন।
DRDO-তে ৭০০ টিরও বেশি পদে নিয়োগ, আবেদন করার পদ্ধতি জেনে নিন
চীনা পক্ষও চারজনের মৃত্যু স্বীকার করে। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে ঠান্ডা হাওয়ায় ফেলে দেয়। ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে চীনা পরিদর্শকদের টুরিস্ট ভিজা বাতিল করে, সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় এবং ব্যবসায়িক ভিজাগুলোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করে তোলে। শুধু গৃহ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রক নয়, এখন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ সহ একাধিক মন্ত্রকের চোখে চোখ রাখা হয়। ফল?
চীনা টেকনিশিয়ানরা মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকতেন, যার ফলে ভারতের ইলেকট্রনিক্স, টেলিকম এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। চীনা অ্যাপগুলো ব্যান, চীনা বিনিয়োগে কড়া নজরদারি—সবকিছু যেন একটা যুদ্ধের ছায়া ফেলেছিল।কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতাস বদলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এ বছরের চীন সফর, যা সাত বছর পর তাঁর প্রথম, সেই পরিবর্তনের সূচনা।
সিয়ানজিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ফলস্বরূপ, অক্টোবরে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় শুরু হয়। এবং এখন, ডিসেম্বরে এসে ব্যবসায়িক ভিজার লাল ফিতা কাটা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা অতিরিক্ত প্রশাসনিক যাচাইয়ের স্তর অপসারণ করেছি।
এখন চার সপ্তাহের মধ্যে ভিজা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।” এটি শুধু ভিজা নয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতার দরজা খুলে দিচ্ছে। চীনা টেকনিশিয়ানরা এখন সহজে ভারতে আসতে পারবেন, যা ইন্ডিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংকে বুস্ট দেবে। বিশেষ করে, আমেরিকার শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে ভারত চীনের সঙ্গে ট্রেড বাড়ানোর চেষ্টা করছে।





