
ব্রিটেন-নিবাসী অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা পেম ওয়াং থংডক-কে সাংহাই পুডং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৮ ঘণ্টা আটক রাখার ঘটনায় ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই গুরুতর বিতর্কের আবহে থংডক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তাঁর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন অনলাইন ট্রোলিং উপেক্ষা করে ঐক্যের জোরদার বার্তা দিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে এই আন্তর্জাতিক ইস্যুর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তাঁকে আটক করার কারণ হিসেবে চিনা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তাঁর জন্মস্থান অরুণাচল প্রদেশ হওয়ায় তাঁর ভারতীয় পাসপোর্টকে তারা স্বীকৃতি দিতে নারাজ। থংডক এই ঘটনাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি অপমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
থংডকের দৃঢ় বার্তা: ট্রোলিং নয়, জাতির সম্মান জরুরি
পেশায় আর্থিক পরিষেবা খাতে কর্মরত উচ্চ-প্রোফাইল পদে থাকা থংডক তাঁর সীমিত সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে ট্রোলারদের উত্তর দেওয়ার মতো ‘অলস সময়’ তাঁর নেই। তাঁর এই মন্তব্য অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে।
তিনি লিখেছেন, ‘‘এই কূটনৈতিক ইস্যুর সমর্থনে যাঁরা কথা বলছেন, আমি তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি এখানে নতুন এবং ‘এক্স’-এ সক্রিয় নই, কারণ আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে আমার একটি খুব উচ্চ-মর্যাদার পূর্ণকালীন চাকরি আছে এবং ট্রোলারদের উত্তর দেওয়ার মতো অতিরিক্ত সময় আমার কাছে নেই! সঠিক মানুষরা বিষয়টি বুঝবেন।’’
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন যে তিনি ভারতে বসবাস করেন না, কিন্তু তাঁর উদ্বেগ সেই সমস্ত ভারতীয় এবং অরুণাচলীদের জন্য যাঁরা চিনের বারবার দাবি করার কারণে প্রভাবিত হচ্ছেন।
“আমি ভারতে থাকি না, তাই ভারত সরকার যে কোনো পদক্ষেপ নেবে তা এখানকার আমার সহকর্মী ভারতীয় এবং অরুণাচলীরা যারা এখানে বসবাস করছেন, তাদের সুবিধা ও গর্বের জন্য হবে, আমার জন্য নয়। আমরা এক জাতি, আমরা একে অপরের জন্য ঐক্যবদ্ধ।”
চিনের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ India China Diplomatic Row Arunachal Pradesh
এই ঘটনার পর থেকেই নয়াদিল্লি বেইজিং-এর কাছ থেকে জরুরি ব্যাখ্যা দাবি করে চলেছে। ভারত কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে অরুণাচল প্রদেশ দেশের “অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন” অংশ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে যে চীনা কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কনভেনশন এবং তাদের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ, এবং এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বাস্তব। চিনা পক্ষের কোনো অস্বীকার এই অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না।”
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য এবং ভয়াবহ” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি চিনা কর্মকর্তাদের আচরণকে “জাতিগতভাবে বৈষম্যমূলক” এবং “মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দিয়েছে।
থংডক এই হয়রানির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চেয়ে চিঠি লিখেছেন।










